নিজামস-করিমস, পুজোর আগেই শহরের ৪০টি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে সাসপেন্ড লাইসেন্স

Photo: পুজোর আগেই শহরের ৪০টি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে সাসপেন্ড লাইসেন্স (AI)

কলকাতার কথা উঠলে তাতে প্রথমেই আসে খাবারের কথা। বিরিয়ানি থেকে শুরু করে মিষ্টি সিটি অফ জয় যেন খাবারের সম্ভার। শহরের অলিগলিতে ঢুকলেই যেন ভেসে আসে নানান সুস্বাদু খাবারের গন্ধ। সামনেই বাঙালির প্রিয় উৎসব দুর্গাপুজো। আর পুজোতে ঠাকুর দেখার ফাঁকে বাঙালির পেট পুজোতো মাস্ট। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে যেভাবে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও পুর প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে, তাতে কার্যত মাথায় হাত পড়েছে খাদ্যপ্রেমীদের।

শহরের একাধিক রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে গত কয়েকদিন ধরে হানা দিচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। সেই অভিযানে বেশিরভাগ দোকানেই ধরা পড়েছে চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। কোথাও পচা খাবার তো কোথাও আবার ছত্রাক ধরা মাংস-মাছ। আবার কোথাও রান্নাঘরে ইঁদুর ও আরশোলার উপদ্রবের অভিযোগ। এর জেরে কলকাতা পুরসভা এখনও পর্যন্ত ৪০টি রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানের লাইসেন্স আপাতত সাসপেন্ড করেছে।

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, লাইসেন্স সাসপেন্ডের তালিকায় রয়েছে নিজাম, করিমস, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ, আরসালান, শিমলা বিরিয়ানি-সহ একাধিক খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ। এছাড়াও পার্কস্ট্রিটের তুং ফং, মোক্যাম্বো, গড়িয়ার কিছু রেস্তোরাঁ, বারাসতের একটি মলের ফুড প্লাজা, ডেকার্স লেনের কিছু দোকান, চায়না টাউনের বিখ্যাত বিগ বস রেস্তোরাঁ-সহ আরও অনেক দোকানেই ছত্রাকে ভরা পচা খাবার, পচা মাছ-মাংস পাওয়া গিয়েছে।


৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শহরে মোট ৩৯৮৯টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪৮৯টি জায়গায় গুরুতর বেনিয়ম ধরা পড়েছে। ২১৫১টি জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। Sj পাশাপাশি ৬০টি জায়গায় খাবার বিক্রি বন্ধ। ২৫টির ফুড লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড এবং ৪৮টি দোকান বন্ধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৯টি জায়গায় কাজও শুরু হয়েছে।

এবিষয়ে পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে বলেন, ‘পুর আইনে সরাসরি লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেই। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে।’ তিনি জানান, এই সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ ও খাদ্যবিপণিগুলিকে জবাবদিহি এবং খাদ্যসুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।

রেস্তরাঁগুলির রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না, ইঁদুর ও আরশোলার উপদ্রব এবং পচা মাছ-মাংসের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ছত্রাক ধরা মাংস-মাছও দেখা গিয়েছে বলে খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তর সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতির কারণেই কয়েকটি রেস্তোরাঁর ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: বউবাজারের পনির পট্টিতে কলকাতা পুরসভার অভিযান, নষ্ট করা হল খোয়া ক্ষীর ও ছানার কেক

গত কয়েকদিনের অভিযানে প্রায় দেড় টন পচা ও নষ্ট খাবার নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। রান্নায় ব্যবহৃত তেলের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যে তেলে মাত্র তিনবার রান্না করার কথা, তা দিয়ে কয়েকশো বার রান্না করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পুরসভার নজরে এসেছে খাবার তৈরির জায়গা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অপরিচ্ছন্নতাও। লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ফের ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও পুরসভার তরফে কিছু জানানো হয়নি।