দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী (Dhruv Rathee)। শনিবার সকালে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে (Dhruv Rathee) আটক করল পুলিশ। গুরুগ্রাম পুলিশ হিন্দুস্তান টাইমসকে এ কথা জানিয়েছেন। পুলিশের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে তাঁকে (Dhruv Rathee) আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে কেন্দ্র। শুক্রবার রাত থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে শহরের ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে দিল্লিগামী সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। রাজধানীর রাস্তায় সকাল থেকেই মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী। রয়েছে কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীও। বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করে জমায়েত ও প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে গুরগ্রামের সেক্টর ৫৬-র কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে ধ্রুবের (Dhruv Rathee) বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। সূত্রের খবর, তাঁকে (Dhruv Rathee) যন্তর মন্তরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুরোধ না রাখায় তাঁকে আটক করা হয়।
ধ্রুব রাঠীকে (Dhruv Rathee) আটক করায় সরব হয়েছে সিজেপি (CJP)। সমাজমাধ্যমে দলের তরফে লেখা হয়েছে, ‘ধ্রুব রাঠী (Dhruv Rathee) আটক। একনায়ক সেই সমস্ত তরুণ-তরুণীকে দেখে আতঙ্কিত, যারা তাঁর অপকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং চুপ করে বসে থাকতে চাইছে না।‘ শনিবার ধ্রুব (Dhruv Rathee) ছাড়াও একাধিক জনপ্রিয় বিষয়স্রষ্টাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, সিজেপির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা তথা আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। শুক্রবার রাতেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে জেলে যেতে ভয় পান না বলে স্পষ্ট করে দেন দীপকে (Abhijeet Dipke)। তাঁকে আটক করা হলেও আন্দোলন যাতে থেমে না যায়, সেই বার্তাও তিনি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: বাঙালির ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে মহালয়ার ভোরের বীরেন্দ্রকৃষ্ণের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’
সিজেপির (CJP) কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। প্রতিবাদের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি সিজেপিকে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, আটক করা হয়েছে ১৫০ জনকে। অন্য দিকে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের দাবি, আটকের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া, জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার পথে নামার ডাক দেয় সিজেপি (CJP)। পাশাপাশি, এসআইআর তুলে নেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিও তুলেছে তারা। এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আর সেই কর্মসূচি আটকাতে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করে দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘নরেন্দ্র মোদী ভয় পেয়েছেন। দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভয় পেলে এখনও প্রধানমন্ত্রী চেয়ারে বসে আছেন কেন। মোদী-শাহ কি দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চলেছেন।‘ মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ মেনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথেই তাঁরা এগোবেন বলে দাবি করেছেন সিজেপির (CJP) আহ্বায়ক।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=Dl7_Wfl4PJjSahhJ” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>