উত্তরপ্রদেশে হাড়হিম (UP Horror) করা ঘটনা। প্রথমে স্ত্রীকে গুলি করে খুন, তারপর দুই পুরোহিতকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের (UP Horror) আহরৌলার শম্ভুপুর গ্রামে। স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করার পর নিজের তিন সন্তানকে নিয়ে ঘরের ভিতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন ওই যুবক।
মঙ্গলবার সারা রাত ধরে চলে টানটান উত্তেজনা (UP Horror)। ঘরের বাইরে থেকে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টাও করে। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে বোঝানোর পালা চলার পর অবশেষে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। তার আগে নিজের ১০ বছরের পুত্রকেও গুলি করে করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর মৃতের নাম অরবিন্দ সিং। বুধবার ভোরে পুলিশের গুলিতে প্রথমে আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন আজমগড়ের পুলিশ সুপার অনিল কুমার।
আরও পড়ুন: জামুইয়ের পর ফের নওয়াদা, স্কুলেই ছাত্রী হেনস্থার অভিযোগ, অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষক গ্রেপ্তার
মঙ্গলবার অরবিন্দ সিংয়ের স্ত্রী বাড়িতে পুজোর আয়োজন করেছিল। সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি ফিরে দেখেন স্ত্রী ববিতা সিং পুজোয় ব্যস্ত। বাড়িতে পুজো নিয়ে অবরিন্দ সিং অসন্তুষ্ট ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তর্কাতর্কিও হয়। অরবিন্দেরর কাছে লাইসেন্স-সহ পিস্তল ছিল। বচসা চলাকালীন হঠাৎই পিস্তল বের করে স্ত্রীকে গুলি করেন তিনি।
তখনই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্ত্রী ববিতা। পরে দুই পুরোহিত মহেন্দ্র পাঠক এবং অখিলেশ মিশ্রকেও গুলি করে খুন করেন ওই যুবক। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। বাকি পুরোহিতরা পালিয়ে যান। ঘটনার আকস্মিকতায় ভয় পেয়ে যান তাঁদের তিন সন্তান। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তাদের নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়েন অরবিন্দ।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে ফের যৌন নির্যাতন! পুলিশ সেজে নাবালিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ, এক অভিযুক্ত ধৃত
খবর পেয়ে সেখানে পৌছয় পুলিশের বিশাল বাহিনী। গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। অরবিন্দকে আত্মসমর্পণ করতেও বলা হয়। অরবিন্দ হুমকি দেন, তাঁকে ধরার চেষ্টা করা হলে সন্তানদের গুলি করা হবে। ঘটনাস্থলে ছিলেন পুলিশ সুপার অনিল কুমার, ডিআইজি সুনীল কুমার সিং এবং বারাণসীর এডিজি নবীন অরোরা। তাঁরা বার বার অরবিন্দকে সন্তানদের নিরাপদে বাইরে পাঠিয়ে আত্মসমর্পণ করার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু অরবিন্দ গুলি চালাতে থাকেন। তাঁর গুলিতে জখম হয় ১০ বছরের ছেলে। অরবিন্দকে কাবুতে আনতে কাঁদানে গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। বাড়ির মধ্যে পুলিশকে ঢুকতে দেখে গুলি চালান অরবিন্দ। পুলিশের ছোঁড়া পাল্টা গুলিতে তিনি নিজেও জখম হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘর থেকে অরবিন্দের দুই নাবালিকা কন্যাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ছেলে জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।
দেখুন: তিস্তার স্রোতে ভেসে গিয়েছিল হস্তিশাবক, মায়ের কাছে ফেরাল মৎস্যজীবী-বনকর্মীরা