শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর, আজ রাজ্যে অর্ধদিবস ছুটি

প্রয়াত সুরের সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

এছাড়া আজ সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত রবীন্দ্রসদনে লতা মঙ্গেশকরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হবে। উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

এছাড়া আগামী পনেরোদিন রাজ্যে বাজবে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া গান। লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও।


মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তায় রবিবার লেখা হয়েছে ‘কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে আমি গভীরতম শোকপ্রকাশ করছি।

তিনি আজ মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে আমরা রিক্ত হলাম।

সুর সম্রাজ্ঞী ও অনন্য প্রতিভাময়ী দীর্ঘ আট দশক ধরে কণ্ঠের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। হিন্দি, মারাঠি, বাংলা সহ ছত্রিশটিরও বেশি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় গান গেয়েছেন।

বাংলার সঙ্গীতজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগ ছিল। আমাদের নক্ষত্রদের সাধনা ও তাঁর প্রতিভা পরস্পরকে সমৃদ্ধ ও অভিষিক্ত করেছিল।

লতাজির প্রয়াণে স্মৃতিচারণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান ২০১৬ সালে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান বঙ্গবিভূষণ দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন।

সারেগামা (পূর্বে এইচ এম ভি) র সূত্র ধরে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মাধ্যমে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছিল।

কিন্তু সেইসময় লতা মঙ্গেশকর শয্যাশায়ী থাকায় বাংলার এই সম্মান তাঁকে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে লতাজির কন্ঠের স্বর্ণযুগের গানে অনবদ্য সুরে মন্ত্রমুগ্ধ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও।

আজও লতাজির গাওয়া প্রথম বাংলা ক্যাসেট ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ দিয়ে ক্যাসিও বাজানো শুরু করেন মমতা।

২০১১ সালে প্রথমবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হওয়ার পরে ভারতরত্ন শিল্পী লতাজি’র হাত থেকে একটি উপহার পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লতাজির প্রয়াণের পরে মমতার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে সেই প্রসঙ্গও।

লতাজি’র পাঠানো কালীমূর্তির মুখ আঁকা সোনার লকেট আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। আসলে এই ধরনের কিংবদন্তি মানুষরা এভাবেই রয়ে যান স্মৃতিতে, অনুভূতিতে।