জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করল মমতার দল, যুক্ত করা হল তিন কমিশনারকেই

The Supreme Court of India (PIC: ANI)

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। সর্বোচ্চ আদালতে এই মামলাটি করেছেন সাংসদ দোলা সেন। এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকে। ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনের বৈধতা এবং বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা-সহ একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে মামলার আবেদনে। নিয়োগের বাছাই কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছে আবেদনে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ থেকে শুরু করে এসআইআরের একাধিক সিদ্ধান্ত। দুই নির্বাচন কমিশনারকে উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আগেও সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। ইংরেজি দৈনিক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র প্রতিবেদন সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক! আর নয়াদিল্লিতে আছড়ে পড়েছে আন্দোলন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জ্ঞানেশ কপমার দুই নির্বাচন কমিশনারকে এড়িয়ে নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গত ১০ মাসে ১৪ বার দুই কমিশনার লিখিতভাবে ওইসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এসব সামনে আসার পরই সেই সিদ্ধান্তগুলি বাতিলের দাবিতে জনস্বার্থ মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে।

অন্যদিকে ২০২৩ সালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ, তাঁদের চাকরির শর্ত ও মেয়াদ ঠিক করার জন্য নতুন আইন পাশ হয় সংসদে। ওই আইনের অধীনে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের সুপারিশ করার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নিয়ম আছে। সেই কমিটিতে আছেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একজন সদস্য। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারাও মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। তাঁরাও জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবার পৃথক মামলা দায়ের করলেন সাংসদ দোলা সেন। জ্ঞানেশের অপসারণের চেয়ে আবার সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে চলেছেন রিবোধীরা বলে সূত্রের খবর।


তাছাড়া আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিয়োগের বাছাই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং দেশের প্রধান বিচারপতি থাকতেন। সেটা ২০২৩ সালে পরিবর্তন করা হয়। মমতার দলের দায়ের করা নতুন মামলাতেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখান বিরোধীরা। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে এই ইস্যুতে একছাতার তলায় এসেছে বিরোধী শিবির ‘ইন্ডিয়া’। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁরা। এবার দেখার জল কতদূর গড়ায়।