‘আমাকে বারবার মারছিল’, ককপিটে হামলার ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ্যে

Image: X/@snnfinalnd

ফ্লাইদুবাই বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মুচ্ছরের (Smit Machchhar) উপর হামলা চালানোর ঘটনা এবার প্রকাশ্যে এল। সেই ভিডিওতে হামলার পরের মুহূর্তের ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়েছে। যাত্রীদের সাহায্যে পাইলটকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিমানের বাইরে নিয়ে আসা হয়। যাত্রীরা কেউ চিকিৎসকের খোঁজ করছিলেন, কেউ আবার বিমানে অন্য কোনও পাইলট আছেন কি না তা জানতে চাইছিলেন।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>Exclusive Footage Released<br>New footage from the FlyDubai flight has been released, showing the dramatic moments during the incident, including the suspect being subdued, the struggle both inside and outside the cockpit, and the search for additional pilots amid the chaos on… <a href=”https://t.co/Gvaj46FhaH”>pic.twitter.com/Gvaj46FhaH</a></p>&mdash; SNN Finland (@snnfinalnd) <a href=”https://x.com/snnfinalnd/status/2105749806010315017?ref_src=twsrc%5Etfw”>October 1, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-তে ভিডিওটি সম্প্রচারিত হয়। ককপিটের কাছাকাছি একটি আসন থেকে ভিডিওটি তোলা হয়েছে। ভিডিওতে যাত্রীদের চিৎকার এবং আতঙ্কের চিত্র ধরা পড়েছে। এক যাত্রীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘ও বিমানটিকে ক্র্যাশ করাতে চেয়েছিল’।


ইজরায়েলি দন্তচিকিৎসক সোতা মুসায়েভ বিমানের সামনের দিকে ছুটে যান। তিনি আহত পাইলটকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। ভিডিওর পরের অংশে বিমানের ককপিটের বাইরে মেঝেতে ক্যাপ্টে মচ্ছরকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। সেই সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ও আমাকে বারবার মারছিল।‘ নিজের হাতের চোটের কথাও জানান মচ্ছর। তিনি বলেন, হাতটি নাড়াতে পারলেও মুঠো করে ধরতে পারছেন না।

আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে হামলার পর সাহসিকতারর জন্য প্রশংসিত ভারতীয় পাইলট, কে এই স্মিত মচ্ছর?

বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করার পরের দৃশ্যও ফুটেজে রয়েছে। সেখানে মচ্ছরকে (Smit Machchhar) চিকিৎসা করতে দেখা যায়। পরে পুলিশকর্মীরাও বিমানে পৌঁছন। এক যাত্রী সহ-পাইলটকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে উল্লেখ করেন। মচ্ছর চিকিৎসকদের কাছে নিজের হাতের চোট সম্পর্কেও বলতে দেখা যায়।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সহ-পাইলট ‘ইসলামি চরমপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী’। ‘ফক্স নিউজ’-কে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ যে সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আক্রমণ করেছিল, তাকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, সে ইসলামি চরমপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী।‘

নেতানিয়াহু আরও জানান, ইজরায়েলি তদন্তকারীরাও জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন। তাঁর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে হামলাকারী সহ-পাইলট বিমানটি ক্র্যাশ করতে চেয়েছিলেন। নেতানিয়াহুর দাবি, তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে ইয়ারফোনের তার দিয়ে হাত বাঁধা হয় এবং পরে প্লাস্টিকের কাফ ব্যবহার করা হয়।

এর আগে ক্যাপ্টেন মচ্ছরের (Smit Machchhar) সাহসিকতার প্রশংসা করেছিলেন নেতানিয়াহু। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। ‘সিবিএস নিউজ’-কে নেতানিয়াহু বলেন, এই ঘটনা ‘অত্যন্ত সাহসিকতার’ পরিচয়। যার ফলে একটি বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনায় ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা মোদী, ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর

নেতানিয়াহুর বর্ণনা অনুযায়ী, দুবাই থেকে ইজরায়েলের উদ্দেশে রওনা দেওয়া বিমানটি ইজরায়েলের কাছাকাছি পৌঁছনোর সময় এক সহ-পাইলট  ভারতীয় নাগরিক মচ্ছরের উপর হামলা করেন। গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত অবস্থাতেও মচ্ছর ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। সেই সময় বিমানটি আচমকা নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল বলে দাবি নেতানিয়াহুর।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের (Smit Machchhar) শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসা চলছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ক্যাপ্টেন ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। মিত্তল জানান, মচ্ছর ভালো আছেন এবং তাঁর সঙ্গে কথাও বলেছেন। স্মিত মচ্ছরকে ভারতের সাহসী সন্তান বলে উল্লেখ করেছেন তিনি এবং স্মিতের চিকিৎসার জন্য ভারতীয় দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে বলেও জানান মিত্তল।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/wwn5fHBsjBw?si=znOPEpap_6_eaOnt” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>