সিকিমে বিপদের মেঘ যেন কাটছেই না। উত্তর সিকিমে ভূমিধসের (Sikkim Landslide) জেলে চ্যাকুং চু ও তিস্তা নদীর গতিপথ (Sikkim Landslide) অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এবার পশ্চিম সিকিমে নতুন করে ভূমিধস। রিম্বি-ইউকসম প্রধান সড়কে পাহাড় ধসে পড়ায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে যোগাযোগপথ। তার মধ্যেই শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। ফলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িযেছে পড়েছে।
সিকিম সরকার সূত্রে খবর, ইউকসম-তাশিডিং-এর রিম্বি গ্রামে এই ভূমিধস হয় (Sikkim Landslide) । পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি ও পাথরের ধাক্কায় রিম্বির সঙ্গে ইউকসম ও খেচুপরির সংযোগকারী প্রধান সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে (Sikkim Landslide) । রাস্তার উপর দিয়ে কাদার স্রোত বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় বিপুল মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ জমে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়কের বেশ কিছুটা অংশ। পরিস্থিতি এমনই যে ওই পথে হেঁটে চলাচল করাও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: রিপাবলিকানরা জিতলেই প্রত্যেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ হাজার ডলার! বড় ঘোষণা ট্রাম্পের
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভূমিধসে (Sikkim Landslide) পাহাড়ের পাদদেশ এবং কাছাকাছি এলাকার কয়েকটি বাড়িও ঝুঁকিরর মধ্যে পড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, বৃষ্টি আরও বাড়লে নতুন ধস নামতে পারে। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের ঢাল পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এলাকাবাসীর।
রিম্বি-ইউকসম সড়ক (Sikkim Landslide) স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ধসপ্রবণ পাহাড়ের ঢাল পরীক্ষা করানো হোক এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই এই এলাকায় ভূমিধস হয়। তাই শুধু ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা খুলে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ভবিষ্যতে ধস রুখতে পাহাড়ের ঢাল সুরক্ষা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং স্থায়ী নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরির মতো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন। আপাতত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে, রবিবার সকালে চ্যাকুং চু-তে ভূমিধসের (Sikkim Landslide) কারণে তিস্তা নদীর গতিপথ যে অংশে অবরুদ্ধ হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। মঙ্গলবার চুংথাংয়ের মহকুমাশাসক অরুণ ছেত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রশাসনিক দল ওই এলাকা পরিদর্শন করে। ভবিষ্যতে আরও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে কি না এবং টুং-পারটেম সড়ক নির্মাণের কাজে এর প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
চুংথাং মহকুমাশাসকের দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরিদর্শক দলে অরুণ ছেত্রীর পাশাপাশি জিআরইএফ-এর অফিসার কমান্ডিং লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিশ অত্রি, ক্যাপ্টেন সুরজ এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা ছিলেন। ভূমিধসের উৎসস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ঢালের স্থিতিশীলতাও পরীক্ষা করে।