• facebook
  • twitter
Thursday, 15 January, 2026

বিড়ির জিএসটি কমায় আশঙ্কা বাড়ল জনস্বাস্থ্যের

এত দিন বিড়িতে জিএসটি ছিল ২৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সাম্প্রতিক ঘোষণায় সেই কর কাঠামোয় বদল আনা হয়েছে।

সিগারেট-সহ সব তামাকজাত দ্রব্যের উপর অনেকটা জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) বাড়ালেও ব্যতিক্রম রইল বিড়ির ক্ষেত্রে। উল্টে এ ক্ষেত্রে কর অনেকটাই কমানো হয়েছে। নতুন জিএসটি কাঠামোর সেই নির্দেশিকা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে চলেছে। কিন্তু যেখানে সিগারেট ও অন্য তামাকজাত পণ্যে শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে সর্বাধিক ৪০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, সেখানে বিড়ির কর কমে দাঁড়াচ্ছে মাত্র ১৮ শতাংশে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমবে বিড়ির। আর সেই কারণেই উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ও নিম্ন মধ্যবিত্ত, এমনকি গরিব মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, এত দিন বিড়িতে জিএসটি ছিল ২৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সাম্প্রতিক ঘোষণায় সেই কর কাঠামোয় বদল আনা হয়েছে। সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের উপর বাড়তি চাপ পড়লেও বিড়ি তুলনায় অনেকটাই সস্তা হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ বার শুধু গরিব মানুষদের মধ্যেই নয়, সিগারেটের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বিকল্প হিসেবে বিড়ির দিকে ঝুঁকবেন। এতে এক দিকে বিক্রি বাড়বে, অন্য দিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

Advertisement

স্বাস্থ্যবিদদের বক্তব্য, সিগারেট এবং বিড়ি— দু’টিই সমান ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র তথ্য অনুযায়ী, দাম ১০ শতাংশ বাড়ালে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার ৪ থেকে ৮ শতাংশ কমে।  হু-র সুপারিশ অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্য বাঁচাতে সব তামাকজাত দ্রব্যের উপর অন্তত ৭৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা দরকার। অথচ ভারতের নতুন জিএসটি কাঠামোয় সেই সুপারিশের সঙ্গে ফারাক থেকে যাচ্ছে ৫৭ শতাংশ। হু-র হিসাব অনুযায়ী, তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর ১.৭৭ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয় ভারতে— যার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস।

Advertisement

গ্লোবাল অ্যাডল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস)–এর ২০১৬-১৭ সালের সমীক্ষা বলছে, ভারতে অন্তত সাত কোটি মানুষ বিড়ি খান। বর্তমানে সংখ্যাটা আরও বেড়েছে বলেই ধারণা। ক্যানসার বিশেষজ্ঞ বিশাল রাও-এর মতে, ‘আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষ প্রধানত বিড়ি খান। এটা ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর। কর কমলে বিড়ির বিক্রি আরও বাড়বে। ফলে ক্যানসার-সহ অসংখ্য রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।’

দিল্লি এমসের রিউমাটোলজি বিভাগের প্রধান উমা কুমারও একমত। তাঁর কথায়, ‘বিড়ি কোনওভাবেই সিগারেটের থেকে কম ক্ষতিকর নয়। ফুসফুসের রোগ, ক্যানসার এবং হার্টের সমস্যা—সবকিছুর সঙ্গেই সরাসরি যোগ আছে বিড়ির।’

দিল্লি স্টেট ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক প্রজ্ঞা শুল্ক জানান, বিড়িতে টার, নিকোটিন এবং কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে। ফলে বিড়ি মুখ, ফুসফুস, মূত্রাশয় এমনকি জরায়ুতেও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাঁর মতে, ‘বিড়ি এবং সিগারেটের উপর সমান শুল্ক আরোপ করলে যেমন তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কমবে, তেমনই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর থেকে আর্থিক বোঝাও কিছুটা হালকা হবে।’

Advertisement