পরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে কেন্দ্রের দাওয়াই ১০ বছরের জেল, কোটি টাকা জরিমানাও 

Written by SNS June 22, 2024 5:43 pm

দিল্লি, ২২ জুন– ইছজিসি-নেট-নিট নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ৷ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে ইউজিসি-নেট৷ নিট নিয়ে চলছে জোর টানাপোডে়ন৷ তার মাঝেই কেন্দ্রের তরফে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে৷ প্রবেশিকা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রুখতে পাবলিক এগজামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ কার্যকর করার কথা ঘোষণা করা হল৷ পাবলিক এগ্জামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ সংসদে পাশ হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসেই৷ তবে নিট এবং নেট নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই সেই আইনের নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র৷
এ বার পরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে নতুন আইনের নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র৷ এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি প্রশ্নপত্র ফাঁস বা উত্তরপত্রে বেনিয়ম করতে গিয়ে ধরা পড়লেই হতে পারে কড়া শাস্তি৷ তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করতে হবে৷ দোষী প্রমাণিত হলে নূ্যনতম ৩ বছর এবং সর্বাধিক ৫ বছরের জেল হতে পারে৷ দিতে হতে পারে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা৷ যদি কোনও নিয়ামক সংস্থা জালিয়াতি সম্পর্কে জেনেও কোনও পদক্ষেপ না করে, তবে সেক্ষেত্রে ওই সংস্থার ১ কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে৷ ওই সংস্থার কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিক যুক্ত থাকে, তার সর্বনিম্ন ৩ এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে৷ এছাড়া ১ কোটি টাকা জরিমানাও হতে পারে৷ যদি কোনও নিয়ামক সংস্থা বা আয়োজক সংস্থা পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি হচ্ছে জেনেও চুপ থাকে, তা হলে তাদের ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে৷ পরীক্ষা আয়োজক সংস্থার তরফে কেউ জালিয়াতিতে যুক্ত থাকলে, তার বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা৷ নূ্যনতম ৩ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা হতে পারে৷ জরিমানা ১ কোটি টাকা৷
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র উল্লেখ থাকলেও জানানো হয়েছে, তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারাগুলিই এই আইনের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে৷ উল্লেখ্য, আগামী ১ জুলাই থেকে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ কার্যকর হওয়ার কথা৷
উল্লেখ্য, কারণ নিট-এর ফলাফলে কারচুপির অভিযোগে তোলপাড় দেশে৷ সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তদের মধ্যে অধিকাংশ একই প্রতিষ্ঠানের হওয়ায় তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়৷ পরে জানা যায়, প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছনোর কারণে তাঁদের ‘গ্রেস মার্কস’দেওয়ায় এই ফলাফল৷ স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে পরীক্ষা পদ্ধতিতে, এই অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা৷
এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই আইন পাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদে৷ কারণ এরমধ্যেই এই কেলেঙ্কারি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া৷ মোদিকে সংসদে ঘিরতে জোর কদমে প্রস্তুত রাহুল গান্ধি৷ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে পড়ুয়াদের৷ এখন যদি সরকার নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দেখাতে না পারে তাহলে সামনেই বিধানসভা ভোটে তার প্রভাব পড়বে তা ভালো ভাবেই জানে বিজেপি সরকার৷
দেশের বিভিন্ন প্রবেশিকা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বেনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে নয়া আইন কার্যকর করার কথা ঘোষণা করল সরকার৷ নতুন এই পরীক্ষা আইন— উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই এই আইন কার্যকর করা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পডে়ন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান৷ ধর্মেন্দ্র জানিয়েছিলেন, আইন মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই আইন সংক্রান্ত নিয়ম তৈরি করছে৷ এর এক দিন পরেই নতুন পরীক্ষা আইন কার্যকর করার কথা জানাল কেন্দ্র৷
উল্লেখ্য, অন্যদিকে, এই ঘটনার পর ইউজিসি-নেট পরীক্ষা নেওয়ার একদিনের মধ্যেই তা বাতিল ঘোষণা করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি৷ তদন্তে নেমেছে সিবিআই৷ জয়েন্ট সিএসআইআর-ইউজিসি-নেট পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে৷ এই টানাপোডে়নের মাঝে কড়া আইন কেন্দ্রের৷