পদত্যাগ করলেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন ( N Chandrasekaran)। মঙ্গলবার অর্থাৎ ১২ আগস্ট তিনি ( N Chandrasekaran) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে তিনি এখনই পদ ছাড়ছেন না। তাঁর ( N Chandrasekaran) বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সূত্রের দাবি, ইস্তফা দিলেও আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পদে থেকেই কাজ করবেন চন্দ্রশেখরন। তিনি ( N Chandrasekaran) আর পুনর্নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন না বলে জানিয়েছেন।
চন্দ্রশেখরন ( N Chandrasekaran) জানিয়েছেন, গত প্রায় এক দশক টাটা সন্সের নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর কাছে ‘অত্যন্ত সম্মানের এবং গভীর দায়িত্বের’ বিষয় ছিল। তাঁর পরবর্তী পাঁচ বছরের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব টাটা ট্রাস্টের সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টগুলি এবং টাটা সন্সের বোর্ডের কমিটি সুপারিশ করেছিল। কিন্তু বোর্ডে সর্বসম্মত সমর্থন না মেলায় সেই সিদ্ধান্ত ঝুলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে কোনও সমাধান না হওয়ায় তিনি ( N Chandrasekaran) আর পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্তে এগোতে চাননি।
তবে চন্দ্রশেখরন কেন পদত্যাগ করলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। টাটা গোষ্ঠীর তরফেও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে টাটা গোষ্ঠীর বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেই সময় চন্দ্রশেখরনের ইস্তফাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারী বৃষ্টিতে মুম্বাইয়ের ঘাটকোপারে ধস, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত ২
টাটা গোষ্ঠীতে চন্দ্রশেখরনের ( N Chandrasekaran) পথচলা শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ২০০৯ সালে টিসিএসের সিইও হন ( N Chandrasekaran)। পরে ২০১৭ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ( N Chandrasekaran)। তিনি টাটা গোষ্ঠীর পরিবার বা প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে থেকে উঠে আসেননি।
চন্দ্রশেখরনের ( N Chandrasekaran) পুনর্নিয়োগ নিয়ে টাটা ট্রাস্টস ও টাটা সন্সের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে টাটা সন্সের ঋণ, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, সংস্থাটিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার সম্ভাবনা এবং শাপুরজি পালোনজি গোষ্ঠী, বিভিন্ন বিষয় অন্যতম।
আগামী ১৮ আগস্ট টাটা সন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা হওয়ার কথা। তার আগে চন্দ্রশেখরনের ( N Chandrasekaran) পদত্যাগের ঘোষণা সংস্থার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
খবর প্রকাশের পর টাটা গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার শেয়ারে ধস দেখা যায়। টিসিএসের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ ধস নামে। টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকলস ও টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টসের শেয়ারও পড়ে যায়। টাইটান ও টাটা স্টিলের শেয়ারেও প্রায় ২ শতাংশ করে পতন হয়।
বর্তমানে টাটা সন্স ৩০টিরও বেশি সংস্থার নিয়ন্ত্রণকারী হোল্ডিং কোম্পানি। এর মধ্যে টিসিএস, টাটা মোটরস এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা রয়েছে। টাটা ট্রাস্টস টাটা সন্সের প্রায় ৬৬ শতাংস মালিকানা ধরে রেখেছে।
চন্দ্রশেখরনের ( N Chandrasekaran) মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাটা সন্সের নেতৃত্বে কে আসবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
দেখুন: ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের নাম নয়’, ভোটার তালিকা নিয়ে ফের সরব বিজেপি