দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ কবে? স্পিকারকে প্রশ্ন অভিষেক টিমের

MP Abhishek Banerjee Photo-SNS

বাংলার ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। ২০ জন লোকসভার সাংসদ দলত্যাগ করে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। আর তার জেরে এই ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তা কিছুদিন আগেই জমা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ কবে হবে? তাঁদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? স্পিকার কী ভাবনা? এমনকী অধিবেশনে তৃণমূল সাংসদদের কেন পিছনের সারিতে বসতে দেওয়া হচ্ছে? এইসব প্রশ্ন নিয়ে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সাংসদরা।

এদিকে ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাতের পর স্পিকার তৃণমূল সাংসদের পিছনের সারিতে বসার বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। পরের অধিবেশন শুরু হলে তৃণমূল সাংসদদের আসন কেন পিছিয়ে দেওয়া হলো সেটা খতিয়ে দেখবেন বলেছেন। তবে দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ নিয়ে কিছু বলেননি বলেই জানতে পারা গিয়েছে। এরপর সংসদের বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘আমাদের আসন যে পরিবর্তন করা হয়েছে সেটার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এখন আমাদের আসন সেই সমস্ত এনসিপিআই সাংসদের পাশে দেওয়া হয়েছে, যারা বিজেপির দিকে চলে গিয়েছে। অথচ তাদের এখনও কোনও সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। অধিবেশন শুরু হওয়ার পর, প্রায় ২৩ বা ২৪ জুলাই আমি স্পিকারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করি। আমাকে একটি নির্দিষ্ট চিঠি জমা দিতে বলা হয়েছিল। ২৬ জুলাইয়ের মধ্যেই সেই চিঠি জমা দেওয়া হয়। এরপর আমি, সৌগত রায়, কীর্তি আজাদ এবং প্রতিমা মণ্ডল বিষয়টি নিয়ে স্পিকারের কাছে গিয়ে কথা বলি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’

কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও দেখা করেছেন এনসিপিআই সাংসদরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেন তাঁরা। আর তাঁদের সাংসদ পদ এখনও খারিজ হয়নি। সদ্য সুপ্রিম কোর্টও একটা পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। তারপরও দলত্যাগীরা সাংসদ হয়ে রয়েছেন। বুধবার এই ঘটনা নিয়ে অভিষেক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমি, সৌগত রায় এবং আমাদের দলের অন্যান্য সদস্যরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়গুলি তুলে ধরেছি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের বিষয়টিও তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। কিন্তু এখনও কোনও পদক্ষেপ হয়নি। আমি কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাইনি। শুধু বলা হয়েছে, পরবর্তী অধিবেশনের আগে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু আমরা প্রথমবার প্রায় ২২-২৩ জুলাই তাঁর কাছে গিয়েছিলাম, আর আজ ১২ আগস্ট। প্রায় ২০ দিন হয়ে গেল, এখনও কোনও পদক্ষেপ হয়নি।’


তাছাড়া তাঁরা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের প্রতীকে জিতে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে। স্পিকারকে সে কথা বলা হয়েছে। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এই সাংসদদের কেন এখনও আলাদা কোনও গোষ্ঠী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি? সেই অনুযায়ী তাঁদের কেন বিবেচনা করা হচ্ছে না? যদি তাঁদের এনসিপিআই হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমি পরিষ্কার করে দিতে চাই, এই সাংসদরা তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে তাঁরা নির্বাচনে লড়েছেন। এখন তাঁরা সংসদে এসে প্রকাশ্যেই বলছেন যে তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করছেন। এই পরিস্থিতিতে আমার মনে হয়, সংবিধানের দশম তফসিলের বিধানগুলি খতিয়ে দেখা উচিত এবং তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। স্পিকার যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অযোগ্যতার আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করেন, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে।’