বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই চরম ডামাডোল চলছে তৃণমূল কংগ্রেসে। দলের প্রতীক ও তহবিল নিয়ে মামলা চলছে। সেই মামলা নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়ও পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই মামলার এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। দলের প্রতীক ও তহবিলের অধিকার নিয়ে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত শিবির গিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। আগস্টের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন এই বিতর্কের মীমাংসা করবে বলে আশা ছিল দুই শিবিরের। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলেছে কমিশন। তৃণমূলের এই বিরোধ নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সিদ্ধান্তই হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে এবার কমিশনকে চিঠি পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩১ আগস্ট কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে মমতা লিখেছেন, ‘দীর্ঘদিন হয়ে গিয়েছে, আপনারা একটি বিষয়কে ঝুলিয়ে রেখেছেন। দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি করুন।’ শুধু চিঠি দেওয়া নয়, সূত্রের খবর, ওই চিঠির সঙ্গে কয়েকজন বিধায়কের চিঠিও জুড়ে দিয়েছেন নেত্রী। ওই চিঠিতে নেত্রীর অভিযোগ, কয়েকজন বিধায়ককে ভুলপথে পরিচালিত করা হচ্ছে। তবে ওই কয়েকজন বলতে মমতা কাদের বোঝাতে চেয়েছে তা জানা যায়নি। এখন এই বিধায়ক কারা, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠেছে, ঋতব্রত শিবির থেকে কেউ কি কালীঘাটে ফিরতে চান? বিধায়কদের সেই সংখ্যাটা কত? তাঁরা ফিরলে দলের রাশ কি ফের কালীঘাটের হাতে ফিরবে? তবে কোনও প্রশ্নের উত্তরই এখনও স্পষ্ট নয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল। ফলাফল ঘোষণার কয়েকদিন পরেই প্রত্যেকদিনই একটু একটু করে ভেঙেছে দল। অধিকাংশ বিধায়কই যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। এখন ঋতব্রত শিবিরই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করছে। অন্যদিকে, সাংসদদের অধিকাংশই তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যসভার তিন সাংসদ পদত্যাগ করে বিজেপিতে ভিড়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা বিজেপির টিকিটে ফের রাজ্যসভাতেও গিয়েছেন। এই জটিল পরিস্থিতিতে তৃণমূলের রাশ কোন শিবিরের হাতে থাকবে, তা নিয়ে কালীঘাট বনাম আসল ঋতব্রত শিবিরের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে প্রায় মাস দুই আগে। নিজেদের দাবির সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ পেশ করার জন্য কমিশন জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে দু’পক্ষকে তাদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছিল। নির্দেশ মতোই কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কমিশনে তাঁদের নথিপত্র জমা করেছিল। তবে ঋতব্রত শিবির এজন্য কিছুটা সময় চেয়েছিল। যা নিয়ে আপত্তি জানান মমতা। বিরোধী পক্ষকে কেন অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এর পরই জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, উভয় পক্ষের নথিপত্র দেখার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনে মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের আশা ছিল, ১৫ আগস্টের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও তহবিল সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি করবে কমিশন। কিন্তু আগস্ট শেষ হলেও এখনও এবিষয়ে কমিশন মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে। তাই আগস্টের শেষদিনে বিষয়টি মমতা ফের কমিশনকে স্মরণ করাতে চিঠি পাঠালেন। তাঁর আর্জি, ‘যত শীঘ্র সম্ভব প্রতীক ও তহবিল সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করুন।’