জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ-সহ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত শুনানির আবেদন, সুপ্রিম কোর্টে মমতা শিবির

Supreme Court Photo-SNS

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ এবং তাঁর নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আগেই দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবির। সোমবার ওই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন মমতা শিবিরের আইনজীবী-সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী। এমনিতেই দেশজুড়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে যুবসমাজ এবং দেশের তামাম বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা। একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। ফলে ঘরে-বাইরে চাপে রয়েছেন তিনি বলে সূত্রের খবর। যদিও মমতা শিবিরের এদিনের আবেদন নিয়ে বিচারপতি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ওই মামলার শুনানি হবে।

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন সংশোধন করা হয়েছিল। তারপর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে বসেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর নিয়োগের বিরোধিতা করেছিল বিরোধী দলগুলি। দেশের নানা প্রান্তে এসআইআর হয়। তাতে বহু বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায় বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গে অনেক ভোটারের আবেদন এখনও বিবেচনাধীন আছে। এই পরিস্থিতিতে কদিন আগে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসআইআর বিষয়ক একাধিক সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নিচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার। বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে না। একাধিক সিদ্ধান্তে বারবার তাঁরা আপত্তি জানালেও তা শোনা হয়নি। এই খবর প্রকাশ্যে আসায় জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করে ইন্ডিয়া জোট। মমতার দল সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বাকি দু’জন কমিশনার চিঠি লিখেছিলেন ক্যাবিনেট সচিবকে। সেখান থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। গোটা বিষয়টি আরটিআই করার জেরে সামনে এসে গিয়েছে। সুতরাং জ্ঞানেশ কুমারের উপর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এই আবহে জ্ঞানেশের সিদ্ধান্তগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন সাংসদ দোলা সেন। মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বাকি দুই কমিশনারকেও। আর এদিন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানান, এই মামলায় নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্ত এবং আইন মেনে না চললে তার কী পরিণতি হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।


তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক চিঠি দিয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমারকে। সেখানে যে বেআইনি কাজ হচ্ছে তা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার কোনও উত্তর দেননি জ্ঞানেশ কুমার। তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে সওয়ালও করেছিলেন। তারপর যা ফাঁস হয়েছে তাতে মমতার অভিযোগগুলিকেই সিলমোহর দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে পৃথক একটি মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। চলতি সপ্তাহে তার শুনানির সম্ভাবনা আছে। তার মধ্যেই জ্ঞানেশ কুমার মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানালেন মেনকা। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এসআইআর মামলার সঙ্গেই মমতা তৃণমূলের এই আবেদন জুড়ে দেওয়া হবে এবং একসঙ্গে দু’টি মামলার শুনানি হবে। এই আবহে আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের জমায়েত আছে।