সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর সংশোধনী বিল পাস লোকসভায়

Image: ANI

লোকসভায় পাস হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬। এই বিলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) আইন, ১৯৫৬ সংশোধন করে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করার প্রস্তাব কার্যকর করা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিচারপতির সংখ্যা বাড়াতে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন।

সোমবার দুপুর ২টোয় অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচারমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বিলটি পেশ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘রিফর্ম, পারফর্ম অ্যান্ড ট্রান্সফর্ম’ বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রেও এই বিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন: কালীঘাট তৃণমূলের ‘ফ্রিজ’ অ্যাকাউন্টে সুপ্রিমের মানবিক ভাবনা! দৈনন্দিন খরচে টাকা ছাড়ার পথ খুঁজতে ইডিকে নির্দেশ


তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ক্রমবর্ধমান মামলায় জট কমানো এবং বিচারব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধিপেরে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং নাগরিকদের সময়মতো বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯২ হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন ছিল। ২০১৯ সাল থেকে অনুমোদিত প্রায় পূর্ণ বিচারপতি সংখ্যা নিয়ে কাজ করলেও, গত বছর সুপ্রিম কোর্টে  (Supreme Court) ৭৫ হাজার ৪১০টি নতুন মামলা দায়ের হয়, যেখানে নিষ্পত্তি হয় ৬৫ হাজারের বেশি মামলা।

নতুন মামলা ও নিষ্পত্তির মধ্যে এই ব্যবধানই মামলার জট বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলা এবং বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির প্রয়োজন এমন মামলাগুলির ক্ষেত্রেই চাপ বেশি। এই পরিস্থিতিতে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি করে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন, দ্রুত শুনানির নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

এর আগে দুপুর ১২টায় অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের বিক্ষোভের মাঝেই আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। প্রতিমন্ত্রী রাও ইন্দরজিৎ সিং ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বিল, ২০২৬ পেশ করেন। এই বিলের লক্ষ্য, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইনগত কাঠামো তৈরি করা। যাতে পরিসংখ্যান বিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানের উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হতে পারে।

সকালে অধিবেশন শুরু হলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২৩ তম কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দর জানান। স্পিকার আরও জানান ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস গুজরাতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথ গেমসের ব্যাটন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করার চেষ্টা হলেও বিরোধীরা নিট ইস্যুতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। স্পিকার সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানালেও বিক্ষোভ চলতে থাকায় অধিবেশন প্রথমে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।