মেঘালয়ের শিলঙে খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (KSU) আয়োজিত এক বাইক র্যালি ঘিরে উত্তজেনা ছড়ায়। পুলিশের দাবি, র্যালি চলার সময় একাধিক গাড়িতে হামলা চালানো হয়। কমপক্ষে দুটি সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিও ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, KSU-র সদস্যরা শিলঙের বিভিন্ন রাস্তায় বাইক র্যালি করেন। সেই সময় কয়েকটি গাড়ি আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে দু’টি সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। র্যালির মধ্যেই রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কলোনিতে থাকা স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজির মূর্তিতেও ভাঙচুর চালানো হয়।
আরও পড়ুন: নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আবু জাফর, ‘শিখা ইন’-এর ইজারা তাঁর নামেই
KSU দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে মেঘালয় রেসিডেন্টস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাক্ট কার্যকর করা, মেঘালয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ডিস্ট্রিক্ট সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ।
এছাড়াও নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্সেস(NEIGRIHMS)-এ নার্স নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে KSU। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের দাবিও তুলেছে তারা।
অন্যদিকে, ইস্ট জৈন্তিয়া হিলসের লুম সিরম্যানে শ্রী সিমেন্টের প্রস্তাবিত একটি চুনাপাথ খনি প্রকল্প হওয়ার কথা। তার জন্য একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়। তা নিয়েও আপত্তি জানায় সংগঠনটি। তাদের দাবি, ওই গণশুনানির কার্যক্রম বাতিল করতে হবে।
দাবি পূরণের জন্য রাজ্য সরকারকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছিল KSU। পরে দাবি পূরণ না হওয়ায় শিলংজুড়ে কালো পতাকা নিয়ে বাইক র্যালির ডাক দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, শ্রীনগরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত গোর
বুধবার আন্দোলনকারীরা মেঘালয় সচিবালয়ের মূল ফটকের কাছেও পৌঁছন এবং সেখানে পতাকা লাগান। পুলিশ পরে সেই পতাকাগুলি সরিয়ে দেয়।
যে রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কলোনিতে বিবেকানন্দ ও নেতাজির মূর্তি রয়েছে, সেটি ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই কলোনিতে থাকা স্বামী বিবেকানন্দ এবং নেতাজির মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের মোতায়েন করা হয়েছে। ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কী রকম হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে খবর।