বাংলাদেশের রেলের জন্য ২০ কোচের প্রথম রেক তৈরি করল কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি

Photo: Statesman

ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগে আরও এক ধাপ এগোল। বাংলাদেশের রেলের জন্য ২০টি এলএইচবি কোচের প্রথম রেক তৈরি করে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরি। এই রেকের প্রতিটি কোচই চওড়া গেজের যাত্রীবাহী ট্রেনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। শুধু কোচ তৈরি নয়, নকশাতেও থাকছে বেশ কিছু নতুনত্ব।

কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরির তৈরি এই প্রথম রেকে মোট ২০টি কোচ থাকছে। তার মধ্যে তিনটি এসি স্লিপার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কার, ১২টি নন-এসি চেয়ার কার এবং দু’টি পাওয়ার কার। বাংলাদেশের রেলের প্রয়োজন অনুযায়ী কোচগুলির নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এলএইচবি ধরনের কোচে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য এই প্রথম যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রেলের সঙ্গে কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরির সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৫-১৬ সালে বাংলাদেশ রেলকে ১২০টি এলএইচবি চওড়া গেজের যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছিল এই কারখানা। সেই সাফল্যের পর ফের কপূরথলা রেল কোচ ফ্যাক্টরির উপর আস্থা রেখেছে বাংলাদেশ রেল। ২০২৪ সালে রেল মন্ত্রকের অধীন সংস্থা রাইটসের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেল ২০০টি চওড়া গেজের যাত্রীবাহী কোচের বরাত দেয় কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরিকে। মোট সাত ধরনের কোচ তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে এই বরাতে। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে ২০টি কোচের প্রথম রেক তৈরি হচ্ছে।`


Photo: Statesman

কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরির আধিকারিকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য তৈরি কোচগুলিতে যাত্রীদের আরাম এবং নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের নির্দিষ্ট রেল পরিকাঠামোর বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ এলএইচবি কোচের তুলনায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে নকশা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন শুল্কের হুমকি উপেক্ষা, রুশ তেলেই ভরসা অটুট ভারতের

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। দুই দেশের মধ্যে রেলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ বাড়ানোর পাশাপাশি রেল পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য নতুন কোচ তৈরির এই উদ্যোগ সেই সহযোগিতাকেই আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০টি কোচের প্রথম রেক তৈরির সঙ্গে কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরির আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হল।