বহুল প্রতীক্ষিত হর্নবিল উৎসব উপলক্ষে ২০২৫–এ বিশেষ সম্মান হিসেবে আয়ারল্যান্ডকে ‘কান্ট্রি পার্টনার’ ঘোষণা করল নাগাল্যান্ড সরকার। নাগাল্যান্ড সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই অংশীদারিত্বের ফলে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন-সহযোগিতা এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার বিকাশ আরও দৃঢ় হবে। পর্যটন দপ্তর মনে করছে, উত্তর–পূর্ব ভারতের সবচেয়ে খ্যাতনামা উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম হর্নবিল উৎসবে আয়ারল্যান্ডের অংশগ্রহণ উৎসবে আন্তর্জাতিক মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।
পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব কেবল সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী নয়; বরং সঙ্গীত, লোকশিল্প, সাহিত্য ও রন্ধনশৈলীর একটি সমন্বিত পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ এনে দেবে। পর্যটন দপ্তর জানিয়েছে, ‘উৎসবের মঞ্চে আয়ারল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী শিল্প, সঙ্গীত এবং হস্তশিল্প প্রদর্শনের পাশাপাশি যৌথ কর্মশালার আয়োজন করা হবে।’ এ ছাড়া দুই দেশের পর্যটন–শিল্পকে পরস্পরের কাছে তুলে ধরার জন্য বিশেষ সেমিনারও করা হবে।
Advertisement
নাগাল্যান্ড সরকারের কর্মকর্তারা জানান, ‘হর্নবিল উৎসবের জনপ্রিয়তা বছর বছর বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে এই উৎসব এখন উত্তর–পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রবেশদ্বার। আয়ারল্যান্ডকে কান্ট্রি পার্টনার ঘোষণা করার ফলে উৎসবের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও প্রসারিত হবে।’ নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও জানিয়েছেন, ‘এই বছরের হর্নবিল উৎসবে আয়ারল্যান্ডকে কান্ট্রি পার্টনার ঘোষণা করতে পেরে নাগাল্যান্ড সরকার খুবই গর্বিত।’
Advertisement
আয়ারল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগাল্যান্ডের সমৃদ্ধ নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তারা সম্মানিত। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ‘হর্নবিল উৎসব বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিকে একই মঞ্চে তুলে ধরার এক অনন্য উদাহরণ— এ বছরের অংশীদারিত্ব দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।’
প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের নভেম্বর–ডিসেম্বরে আয়োজিত হর্নবিল উৎসব বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটককে আকর্ষণ করে। উৎসবের মাধ্যমে নাগা সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা, নৃত্য, সঙ্গীত, রন্ধনশৈলী ও হস্তশিল্প আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ পরিচিতি পায়।
Advertisement



