ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলে অবস্থিত ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে বুধবার সফল ভাবে পরীক্ষা করা হল ভারতের দেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্রলয়’। একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয় এবং দু’টি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিখুঁত ভাবে ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে ‘প্রলয়’। এই সাফল্যের কথা জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শুরু হয় এই পরীক্ষা। ডিআরডিও সূত্রে খবর, পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত আধুনিক প্রযুক্তি ও অপারেশনাল সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর মাঝপথে অভিমুখ পরিবর্তনের ক্ষমতাও সফল ভাবে প্রদর্শন করেছে প্রলয়, যা একে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী একটি অস্ত্র।
Advertisement
প্রলয় একটি ‘ভূমি থেকে ভূমি’তে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এই অস্ত্রের পাল্লা ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে ৩৫০ থেকে ৭০০ কেজি কিংবা সর্বোচ্চ এক হাজার কেজি ওজনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক বহন করা যায়। শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে প্রলয়ের। ২০২২ সালে প্রথমবার ভারতীয় সেনার অস্ত্রভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রলয়। তার পর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন উন্নত সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে ডিআরডিও। বর্তমানে ভারতীয় সেনার পাশাপাশি বায়ুসেনাও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
Advertisement
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনা সেনার আগ্রাসন ও গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্দেশে ২০২২ সালে পূর্ব লাদাখে প্রলয় মোতায়েন করা হয়। সাম্প্রতিক এই অস্ত্রপরীক্ষা সেই প্রস্তুতির ক্ষেত্রেই আরও এক ধাপ অগ্রগতি বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement



