কৌশলগত খনিজে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে ভারত ও জাপান। রাজস্থানের মরুপ্রদেশে সদ্য চিহ্নিত বিরল মাটির খনিজ ভাণ্ডারের যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উন্নয়নের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি ঘোষণা করেছিলেন, রাজস্থান ও গুজরাতে তিনটি শক্ত শিলা ভিত্তিক বিরল মাটির খনিজ ভাণ্ডারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভাণ্ডারগুলিতে প্রায় ১২.৯ লক্ষ মেট্রিক টন বিরল মাটির অক্সাইড মজুত রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। এই আবিষ্কার দেশের খনিজ নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
Advertisement
জানা গিয়েছে, গত বছর গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ভারত ও জাপানের মধ্যে যে প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল, বর্তমান আলোচনা তারই অংশ। প্রস্তাবিত সহযোগিতা অনুযায়ী, জাপান রাজস্থানে বিশেষজ্ঞ দল পাঠাতে পারে। তারা সেখানে খনিজ ভাণ্ডারের প্রকৃতি, উত্তোলনযোগ্যতা এবং প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে।
Advertisement
শক্ত শিলা ভিত্তিক বিরল মাটি খনিজ উত্তোলনে বিশেষ প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। বর্তমানে বৃহৎ পরিসরে সেই প্রযুক্তি ভারতের হাতে নেই। এই ক্ষেত্রে জাপানের উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিনিময়ে জাপান স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল মাটির উপাদান বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর, বায়ু বিদ্যুৎ টারবাইন, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন নির্মাণে অপরিহার্য। ফলে শিল্প ও প্রতিরক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই এই খনিজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির একটি হিসেবে ভারত তার শিল্পায়ন ও কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে এই খনিজের নিরাপদ প্রাপ্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
অন্যদিকে, জাপানও বিশ্বজুড়ে খনি প্রকল্প খতিয়ে দেখছে, যাতে তাদের খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে জাপান-চিন সম্পর্কের টানাপোড়েনও এই আলোচনার পটভূমিতে রয়েছে। গত সপ্তাহে চিন কিছু দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ২০টি জাপানি সংস্থার কাছে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে জাপানি সংস্থাগুলির জন্য সাতটি বিরল মাটির উপাদান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রাপ্তি সীমিত হয়ে পড়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত রাজস্থানের প্রকল্পে নির্দিষ্ট কোনও সংস্থা বা প্রযুক্তি চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে লিথিয়াম, তামা ও কোবাল্ট অনুসন্ধানেও ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে জাপান।
সব মিলিয়ে, রাজস্থানের বিরল মাটি খনিজ ঘিরে ভারত-জাপান আলোচনা কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত সমীকরণের অংশ বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
Advertisement



