• facebook
  • twitter
Thursday, 15 January, 2026

পাকিস্তানের ‘ভণ্ডামি’ তুলে ধরল ভারত, ’৭১-এর যৌন হিংসার নজির টেনে কড়া আক্রমণ রাষ্ট্রসঙ্ঘে

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের খোলা বিতর্কসভায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র কণ্ঠে সরব হল ভারত। অভিযোগ তোলা হল, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা নারীদের উপর যে অমানবিক যৌন হিংসা চালিয়েছিল, আজও সেই ঘৃণ্য কাজ বন্ধ হয়নি। বরং সংখ্যালঘু মহিলাদের উপর নির্যাতন পাকিস্তানে এক ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘে ভারতের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স এল্ডোজ ম্যাথু পুন্নুস একের পর এক অভিযোগ

ফাইল চিত্র

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের খোলা বিতর্কসভায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র কণ্ঠে সরব হল ভারত। অভিযোগ তোলা হল, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা নারীদের উপর যে অমানবিক যৌন হিংসা চালিয়েছিল, আজও সেই ঘৃণ্য কাজ বন্ধ হয়নি। বরং সংখ্যালঘু মহিলাদের উপর নির্যাতন পাকিস্তানে এক ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।

মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘে ভারতের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স এল্ডোজ ম্যাথু পুন্নুস একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরে কার্যত পাকিস্তানকে তুলোধোনা করেন। তিনি বলেন— ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের সেনারা যে ভয়াবহ যৌন নির্যাতন চালিয়েছিল, তা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কলঙ্ক হয়ে রয়ে গিয়েছে। আজও সেদেশে ধর্ম ও জাতিগত সংখ্যালঘু মহিলাদের উপর অপহরণ, পাচার, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিবাহ দেওয়া হচ্ছে।’

Advertisement

আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুন্নুস পাকিস্তানের দ্বিচারিতা তুলে ধরে অভিযোগ করেন, পাকিস্তান একদিকে বিশ্বসভায় মানবাধিকারের রক্ষক সেজে প্রচার চালায়, অন্যদিকে নিজেদের দেশে মহিলাদের উপর ভয়ঙ্কর অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়। বিচারব্যবস্থা পর্যন্ত এই অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে বরং তাদের রক্ষা করে চলেছে। এদিন ভারতের এই প্রতিনিধি কটাক্ষ করে বলেন, ‘যাঁরা নিজের দেশে নির্যাতন চালায়, তাঁরাই মানবাধিকারের ঢাক বাজিয়ে বেড়ায়। পাকিস্তানের এই ভণ্ডামি এখন স্পষ্ট।’

Advertisement

রাষ্ট্রসঙ্ঘে  ভারতের বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা ছিল, পাকিস্তান তার অতীত অপরাধ থেকে শিক্ষা নেয়নি। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় লক্ষ লক্ষ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। সেই অপরাধের কোনও শাস্তি হয়নি। আর আজও সেদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

পুন্নুস আরও বলেন, পাকিস্তানে ছোট ছোট মেয়েদের অপহরণ করে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়, নাবালিকাদের দাসীর মতো খাটানো হয়, আর মহিলাদের যৌন হিংসার শিকার হতে হয়। এমন তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সাম্প্রতিক ওএইচসিএইচআর-এর রিপোর্টেও স্পষ্ট।

ভারতের দাবি, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন হিংসা কেবলমাত্র ব্যক্তির সম্মান নষ্ট করে না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের মধ্যে ভয়ের আবহ তৈরি করে দেয়। তাই নির্যাতিতাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই।

Advertisement