• facebook
  • twitter
Tuesday, 27 January, 2026

ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত, আজ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালে আবার নতুন করে এই আলোচনা শুরু হয়।

এক ঐতিহাসিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হল বহুল প্রতীক্ষিত ‘মাদার অফ অল ডিলস’-এর আলোচনা। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার এই তথ্য দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল। তিনি নিশ্চিত করেছেন, আগামী মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ভারত-ইইউ শীর্ষ বৈঠকে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।

বাণিজ্য সচিব জানান, আইনি যাচাই-বাছাই (লিগ্যাল স্ক্রাবিং) সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হবে, যা সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় নেয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর থেকেই এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

Advertisement

এই চুক্তিকে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী’ বলে উল্লেখ করে রাজেশ আগরওয়াল বলেন, এর ফলে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও মজবুত হবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড়সড় গতি আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Advertisement

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইইউ-র বাণিজ্য কমিশনার মারকোস সেফকোভিচ এই চুক্তিকে ‘এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার ইউরোপীয় সংস্থা ভারতে কাজ করছে এবং গত এক দশকে ভারত-ইইউ বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।

সেফকোভিচের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বিশাল মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে উঠবে। ইউরোপীয় পণ্যের উপর ভারতের একাধিক আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।

১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ বৈঠক
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৬তম ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ বৈঠকের আয়োজক হবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন।

এই বৈঠকে একটি যৌথ ভারত-ইইউ সমন্বিত কৌশলগত কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা, সংযোগ ও বৈশ্বিক বিষয় এবং সমৃদ্ধি ও স্থায়িত্ব— এই চারটি ক্ষেত্রে ভারত ও ইউরোপের কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

Advertisement