চিনের (Chaina) পণ্য অন্য কোনও দেশের মাধ্যমে আমেরিকায় পাঠিয়ে মার্কিন (USA) শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। হোয়াইট হাউসের তরফে একটি নতুন রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েচে। তাতেই এই অভিযোগ করা হয়েছে। রিপোর্টের নাম দেওয়া হয়েছে ‘The Great Transshipment Scam’। রিপোর্টে (Report) বলা হয়েছে চিন মার্কিন শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে এবং তাকে সহযোগিতাতা করেছে ৪০টিরও বেশি দেশ। রিপোর্টে সেই সব দেশের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের (India) নামও রয়েছে।
রিপোর্টে ভারতের (India) তিনটি শিল্পাঞ্চলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে পুনে-গুজরাত-চেন্নাই শিল্পাঞ্চল চিনের (Chaina) শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। আমেরিকার (USA) অভিযোগ, চিন (Chaina) থেকে আসা বিভিন্ন পণ্য ভারতে (India) এনে প্যাকেজিং, লেবেল বদলে বা নথিপত্র পরিবর্তন করা হয়। তারপর সেগুলিকে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে দেখিয়ে আমেরিকায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অরুণাচলে চিনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের অভিযোগ, কেন্দ্রের সমালোচনায় রাহুল-খাড়্গে
ভারত-মার্কিন(India-USA) বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েনর সময়ই এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আমেরিকা। জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভারতের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ভারতের (India) তেল আমদানি করা নিয়েও বড়সড় শুল্ক আরোপ করতে চলেছে আমেরিকা (USA)। এছাড়া অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরে চলা তদন্তের ফলেও ভারতের (India) উপর আরও শুল্ক আমেরিকা চাপাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চিন কীভা শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে?
হোয়াইট হাউসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চিনা (Chaina) পণ্যের উপর ৭.৫ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করা হয়। এরপরই চিন (Chaina) পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে তৃতীয় দেশ বেছে নেয়। সেই তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আমেরিকায় পণ্য পাঠানো হয়।
চিন (Chaina) পণ্য সরাসরি আমেরিকায় না পাঠিয়ে আগে অন্য দেশে পাঠায়। সেখানে সামান্য অ্যাসেম্বলিং, ফিনিশিং, প্যাকেজিং বা লেবেল পরিবর্তন করার অভিযোগ করা হয়েছে। তারপর পণ্যটি অন্য দেশের দেখিয়ে আমেরিকায় রপ্তানি করা হয়েছে। এর ফলে চিনা (Chaina) পণ্যের উপর প্রযোজ্য বেশি শুল্ক এড়ানো সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা খাতে আরও স্বচ্ছতা আনার বার্তা আমেরিকার
ভারতের পাশাপাশি আরও কোন কোন দেশ রয়েছে
রিপোর্টে চিনের (Chaina) ‘Shadow transshipment Network’-এর সঙ্গে যুক্ত দেশগুলির মধ্যে কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, ইজরায়েল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের নাম রয়েছে।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতের পুনে-গুজরাত-চেন্নাইতে চিন (Chaina) থেকে পাম্প ও কম্প্রেসরের মতো যন্ত্রাংশ আনা হয়। এর প্রভাব আমেরিকার সিনসিনাটি, ডেটন ও কলম্বাসের শিল্প সরবরাহ ব্যবস্থার উপর পড়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
কত টাকার পণ্য শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে
মার্কিন Office of Trade and Economic Analysis-এর হিসাব উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মেক্সিকো, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রধান ট্রান্সশিপমেন্ট হাবের মাধ্যমে চিন থেকে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমেরিকায় পৌঁছছে। এর ফলে মার্কিন সরকারের আনুমানিক ২৮ বিলিয়ন ডলার শুল্ক রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
দেখুন: ডিম-চড়-লাথি, হেলমেট পরেও রেহাই নেই! নির্মলকে ঘিরে খড়দহে বিক্ষোভ