এক লক্ষ কিংবা দু’লক্ষ নয়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বাদ পড়েছে ৯২ লক্ষ উপভোক্তার নাম। তবে এ ঘটনা বাংলার নয়। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রে। যাচাইপ্রক্রিয়ার পর এই পরিসংখ্যানই প্রকাশ্যে এনেছে বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র সরকার। এমনকী মহিলাদের জন্য বরাদ্দ এই প্রকল্পের টাকা পুরুষ উপভোক্তারাও পেতেন বলে জানা গিয়েছে।
মহারাষ্ট্র সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ কোটি ৪৩ লক্ষের মধ্যে ৯২ লক্ষ উপভোক্তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া উপভোক্তাদের মধ্যে ২৯ হাজার পুরুষ রয়েছেন। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ এই নির্দিষ্ট প্রকল্পের টাকা যেত পুরুষদের অ্যাকাউন্টে। এবার নথিভুক্ত উপভোক্তাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশের নামই বাদ পড়েছে।
জানা গিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তার মধ্যে ১৬ লক্ষ উপভোক্তার পারিবারিক বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি। অন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় ৩.৬ লক্ষ মহিলার নাম বাদ পড়েছে। একই পরিবারের দুজনের বেশি উপভোক্তা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় ২.৫ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সি হওয়ায় ১.৮ লক্ষ উপভোক্তার নাম বাদ পড়েছে। সরকারি কর্মচারি হওয়ার পরেও এই প্রকল্পের সুবিধা মেলায় ৮০০০ জন মহিলার নাম বাদ পড়েছে। ই-কেওয়াইসি পূরণ না হওয়ায় ৬২ লক্ষ উপভোক্তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুকরণে ২০২৪ সালে বিধানসভা ভোটের আগে মহারাষ্ট্র সরকার ‘প্রধানমন্ত্রী মাজি লড়কী বহিন যোজনা’ চালু করেছিল। ২১-৬৫ বছর বয়সি যে সমস্ত মহিলাদের পারিবারিক বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই প্রকল্পের উপভোক্তারা মাসে নগদ ১৫০০ টাকা করে পাবেন। সেই মতোই এই প্রকল্পের উপভোক্তরা এর সুবিধা পেতেন। তবে যাচাইপ্রক্রিয়ার পর ৯২ লক্ষ উপভোক্তার নাম বাদ দেওয়া হল।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে রাজ্যের মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করেছে বিজেপি সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় আসা মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার করে আর্থিক সাহায্য পান। আর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই তৎকালীন সরকারের চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক পুরুষই এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে আসছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পুলিশ অনেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এবার বঙ্গের সেই চিত্ররই দেখা মিলল মহারাষ্ট্রে।