আদালতের নির্দেশ অমান্য, নয়ডার ম্যাজিস্ট্রেটকে তোপ শীর্ষ আদালতের   

Photo-SNS

এক আইন পড়ুয়াকে ৫ লক্ষ টাকার বন্ডের নোটিশ দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডা প্রশাসন। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে যোগ দেওয়া এবং সহপাঠীদের সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করার অভিযোগে সেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমন নোটিশ জারি করলেন, বুধবার সেই প্রশ্ন তুলল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ২০ বছরের অক্ষত ত্রিপাঠীকে গত ৪ সেপ্টেম্বর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতে জারি হওয়া ওই নোটিশে অভিযোগ করা হয়, অক্ষত ‘সরকার-বিরোধী’ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। অন্য পড়ুয়াদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য উস্কানি দিচ্ছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে পুলিশের রিপোর্টে দাবি করা হয়।

ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৩০ নম্বর ধারায় জারি করা নোটিশে অক্ষতকে আগামী ৬ মাস কোনও ঝামেলা বা গোলমাল অথবা আইশৃঙ্খলা ভাঙার কাজে জড়াবেন না। এই মর্মে ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং ২ জন ব্যক্তিকে তাঁর হয়ে জামিনদার হতে বলা হয়েছিল। প্রত্যেক জামিনদারকে ৫ লক্ষ টাকা করে দায় নিতে হত। ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে হাজির হওয়ার কথাও জানানো হয়। অক্ষত অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি যন্তর মন্তরের আন্দোলনে শান্তিপূর্ণভাবেই অংশ নিয়েছিলেন। ২০ জুলাই সংসদের দিকে মিছিলের সময় দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপে তিনি আহতও হন বলে দাবি তাঁর।


ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই অবশ্য নোটিশ প্রত্যাহার করে নেয় পুলিশ। কিন্তু তাতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি তোলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, আদালতের নির্দেশের পরেও পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুধু নোটিশ প্রত্যাহার করলেই আদালতের নির্দেশ অমান্যের বিষয়টি মুছে যায় না বলেও তিনি জানান।

এরপরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট যখন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। তখন কোনও প্রশাসনিক কর্তা কীভাবে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে নোটিশ জারি করতে পারেন? আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

আরও পড়ুন: হিথরোর বদলে মুম্বাই-লন্ডন এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান নামল জুরিখে, পরে হল বাতিল, কী কারণ?

উল্লেখ্য, ১ সেপ্টেম্বরই সুপ্রিম কোর্ট সিজেপির ২০-২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছিল। নোটিশটি পরে প্রত্যাহার করা হলেও আদালতের নির্দেশের পরেও কেন এমন পদক্ষেপ করা হল, তা নিয়েই এখন নয়ডা প্রশাসনকে জবাব দিতে হবে।