• facebook
  • twitter
Thursday, 29 January, 2026

আনন্দপুরে শুভেন্দুর মিছিলে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি হাইকোর্টের

১৬৩ ধারা জারি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার আনন্দপুরে শুভেন্দু

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে রাজনীতির উত্তাপ পৌঁছল কলকাতা হাইকোর্টে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রতিবাদ মিছিলকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল আদালত। তবে এই অনুমতির সঙ্গে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ জুড়ে দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল হাইকোর্ট।

বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টে পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। গড়িয়া শীতলা মন্দির অথবা শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন থেকে বাঁদিকের রাস্তা ধরে বাইপাস হয়ে নরেন্দ্রপুর থানার দিকে এগোতে পারবেন শুভেন্দু ও তাঁর অনুগামীরা। তবে থানার ২০০ মিটার আগেই থামাতে হবে মিছিল। সর্বাধিক ২০০০ জন কর্মী-সমর্থক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। মিছিলের উদ্যোক্তাদের নাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে জানিয়ে দিতে হবে প্রশাসনকে। কোনও অশান্তি ঘটলে, তার দায় থাকবে ওই উদ্যোক্তাদের উপরেই। এই একাধিক শর্তেই মিলেছে অনুমতি।

Advertisement

এদিকে, বৃহস্পতিবার আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও সেখানে হাজির হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতানেত্রীরা শঙ্কুদেব পণ্ডা, অগ্নিমিত্রা পল, সুব্রত ঠাকুর, নীলাদ্রিশেখর দানা প্রমুখ। ঘটনাস্থলের কাছে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, ‘মুখ্যমন্ত্রী রাজধর্ম পালন করেননি। একবারও ঘটনাস্থলে আসেননি।’ যদিও তিনি দাবি করেন, আইন মেনেই দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তাঁরা।

Advertisement

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত এখনও তাজা। যেখানে একসময় গুদাম ও কারখানায় শ্রমিকদের আনাগোনা ছিল, সেখানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ আর পোড়া গন্ধ। নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার প্রিয়জনের খোঁজে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। উদ্ধার হওয়া ২১টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হতে চলেছে। প্রশাসনের মতে, এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই দেহগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিবাদের রাস্তায় নামছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষ অনুমতিতে সেই প্রতিবাদ যে কতটা নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ, তা স্পষ্ট করে দিল বিচারপতির নির্দেশই।

Advertisement