এবার প্রকাশ্যে এসেছে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে বড়সড় দুর্নীতির তথ্য। ভুয়ো মাদ্রাসা এবং সংখ্যালঘু স্কুল থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ টাকা স্কলারশিপ হিসেবে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ৯৭২ জন ছাত্রের নাম ব্যবহার করে প্রায় ১০০টি মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু স্কুল থেকে ৫৭ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা স্কলারশিপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। যদিও এইসব ছাত্র বা স্কুলের কোনও অস্তিত্বই নেই বলে জানা গিয়েছে। অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার শৈলেন্দ্র সিং চৌহান জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪০টি মাদ্রাসা এবং সংখ্যালঘু স্কুলের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেসব ছাত্রদের নামে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে, তাদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। এই দুর্নীতি সামনে আসতেই বিজেপিকে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী পিসি শর্মা বলেছেন, ‘ব্যাপম থেকে নার্সিং সর্বত্র ছড়িয়ে আছে দুর্নীতি। এখন আবার শিক্ষা ক্ষেত্রেও বিজেপি সরকারের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে।’
যে ছাত্রদের জন্য এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়, এই সুযোগ থেকে তাঁরাই এতদিন বঞ্চিত হয়ে এসেছে। এদিকে ভুয়ো প্রতিষ্ঠানের নামে দীর্ঘদিন ধরে টাকা আত্মসাৎ করে চলেছে কয়েকজন। এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও মধ্যপ্রদেশ সরকারের সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী কৃষ্ণা গৌর বলেছেন, ‘এই দুর্নীতি আগের কংগ্রেস সরকারের। বর্তমানে কেন্দ্র সরকার এই তদন্ত চালাচ্ছে। আমাদের দপ্তরও সব ধরনের সহযোগিতা করছে।’
Advertisement
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকারের ব্যাপম কেলেঙ্কারি শিক্ষা ক্ষেত্রে দেশের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। এই রাজ্যে একটি সরকারি সংস্থা চাকরি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে থাকে। হিন্দিতে সেই সরকারি সংস্থার নাম– ব্যবহারিক পরীক্ষা মণ্ডল, সংক্ষেপে ‘ব্যাপম’। সেই সংস্থার নিয়োগ ও অন্যান্য দুর্নীতির জাল ছড়িয়েছিল রাজ্যের কোণে কোণে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, বিজেপির মন্ত্রী, নেতা, বিধায়ক, সাংসদ, আমলা থেকে সরকার ঘনিষ্ঠ বিরোধী শিবিরের নেতা-নেত্রী পর্যন্ত এই দুর্নীতিতে জড়িত। টাকার বিনিময়ে যথেচ্ছ বিক্রি হয়েছে চাকরি। তদন্তে জানা যায়, যিনি ডাক্তার হিসেবে চেম্বার খুলে চিকিৎসা করছেন, তিনি আসলে প্রবেশিকা পরীক্ষাতেই বসেননি। একই কথা প্রযোজ্য অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষেত্রেও। প্রবেশিকা পরীক্ষা না দিয়েই তাঁরা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। এই নিয়ে সিবিআই তদন্ত এখনও চলছে। জেলে আছেন শতাধিক অপরাধী।
Advertisement
স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান ভূতুড়ে স্কুল ও ভুয়ো পড়ুয়াদের স্কলারশিপ দেওয়ার নামে যে দুর্নীতি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে ব্যাপম দুর্নীতির কথা উঠে আসছে আলোচনায়।
Advertisement



