আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকার সংশোধনে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গুজরাতের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪০ লক্ষ ৩০ হাজার ৭২৫ জন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর অতিরিক্ত ৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৬৬ জন নতুন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল এই নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, আপত্তি নিষ্পত্তি এবং নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির কাজ সম্পন্ন করা হয়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ে। পরে সেগুলি খতিয়ে দেখে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
Advertisement
গুজরাতের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হরীত শুক্লা জানান, ‘সমস্ত প্রশাসনিক স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই বৃহৎ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি জানান, এই কাজে ৩৪ জন জেলা নির্বাচন আধিকারিক, ১৮২ জন ভোটার নথিভুক্তিকরণ আধিকারিক, ৮৫৫ জন সহকারী আধিকারিক এবং ৫০ হাজারের বেশি বুথস্তরের কর্মী অংশ নেন।
Advertisement
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে গুজরাতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৮ লক্ষের বেশি। পরে বুথ পর্যায়ে যাচাইয়ের সময় মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হওয়া নাগরিক এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেই কারণে খসড়া তালিকায় ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ ৭০ হাজার ১০৯ জন। এরপর আপত্তি ও নতুন আবেদনের নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা বেড়ে যায়। বৃদ্ধি পেয়ে ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ কোটি ৪০ লক্ষ ৩০ হাজার ৭২৫। অর্থাৎ খসড়া তালিকার তুলনায় প্রায় ১.২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, আমেদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২৩৪ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুরাত, সেখানে যুক্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ১ হাজার ৫৭৮ জন। এরপর রয়েছে রাজকোট, যেখানে নতুন ভোটারের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫১৭। এছাড়া ভাদোদরা এবং ভাবনগর জেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ডাং, নর্মদা এবং তাপি জেলায় তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সুরেন্দ্রনগর এবং বানাসকাঁঠা জেলায় বেশ কিছু নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, বুথস্তরের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ভোটারদের ছবি ও তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক করে তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, এই সংশোধিত তালিকা আগামী নির্বাচনের জন্য আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করা হবে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
Advertisement



