চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে জানুয়ারি মাসে, সতর্ক পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

Final Voter List 2027 Photo-SNS

এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে চলা আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। তারই মধ্যে সামনে এসেছে নয়া তথ্য। সেটা হল, ২০২৭ সালে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তার আগে আগামী ১২ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে খসড়া ভোটার তালিকা। দেশের ১৭টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

তবে স্বাধীনতার পর থেকে দেশজুড়ে মোট আটবার ভোটার তালিকা সংশোধনে নিবিড় সমীক্ষা চালিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ২০০২ সালের সমীক্ষা বাদে প্রত্যেকটিকেই বলা হয়েছিল ইন্টেনসিভ রিভিশন। শুধুমাত্র ২০০২ সালের সমীক্ষার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘স্পেশাল রিভিশন অফ ইন্টেনসিভ নেচার’। তবে কোনওবারেই ভোটার তালিকায় থাকা নামের সংখ্যা কমেনি। এবারই প্রথম সেটা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের তথ্য-পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত এসআইআরে মোট ৯৫ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারের উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। তবে এবার নতুন করে আবার সমীক্ষা শুরু হচ্ছে তাতে গোটা দেশের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেলে এই সংখ্যা বদলাতে পারে।

এই বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের তালিকায় আছে পশ্চিমবঙ্গেও। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি তারিখকে যোগ্যতা নির্ধারণের দিন ধরে এই সংশোধন প্রক্রিয়া চলবে। আর ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল, ১ জুলাই এবং ১ অক্টোবর যাঁরা ভোটার হওয়ার যোগ্য হবেন, তাঁদের কাছ থেকেও আগাম আবেদন গ্রহণ করা হবে। যাদের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি অথচ তারা যোগ্য এবং নতুন ভোটারদের নাম তালিকায় যোগ করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।


তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা থেকে জানা গিয়েছে, আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলির পুনর্বিন্যাস এবং যুক্তিসঙ্গত বিন্যাসের কাজ শেষ করবে। ১২ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নাম তোলা, বাদ দেওয়া এবং তালিকায় থাকা তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন এবং আপত্তি জানানো যাবে। ২৮ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে ওই আবেদন এবং আপত্তির নিষ্পত্তি করতে হবে। ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তবে এবার অত্যন্ত সতর্কতা নিয়ে কাজ করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নাম যুক্ত করার বিশেষ অভিযান একেবারেই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন সকলে।