হাত পা বাঁধা কৃষকরা এবার মুক্তি পেলেন: মােদি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। (File Photo: Twitter/@BJP4India)

পাখির চোখ বিহার। বিধানসভা নির্বাচন কড়া নাড়ছে দরজায়। বসে নেই কোনও পক্ষ। কিন্তু নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘােষণা করার প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে বিহারের অন্তর্ভুক্তি ঘটবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। সােমবার হলও তাই। এদিন ভিডিও কল মাধ্যমে বিহারের ৯ লেনের হাইওয়ের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি ।

এই ভিডিও কনফারেন্সে মােদি বলেন, এতদিন হাত পা বাঁধা ছিল কৃষকদের। সেই বন্ধন থেকে মুক্তি দিতেই সরকারকে হাঁটতে হয়েছে কৃষি সংস্কারের পথে। এদিন এভাবেই এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী। বােঝাতে চাইলেন তাঁর সরকার উন্নয়নের প্রশ্নে যেমন সমঝােতা করেন অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সময়ােপযােগী সংস্কারের পথেই হাঁটবে তাতে বিরােধীরা যতবড় বিক্ষোভই দেখাকনা কেন। 

এদিন নরেন্দ্র মােদি বলেন কৃষক বিলে চাষিদের কষ্টার্জিত ফসল নিজেরা নিজেদের ইচ্ছে মত যে কোনও জায়গায় বিক্রি করতে পারবেন। কিষাণমান্ডিতে সঠিক দাম না পেলে অন্য কোথাও বিক্রি করার স্বাধীনতা কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আগে যেমন ছিল এখন তেমনই থাকবে। দেশের কৃষি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই বিল নয়। অনেকেই এর বিরােধিতা করছেন কিন্তু তারা সঠিকভাবে মানুষকে বােঝাতে ব্যর্থ এই বিল সম্পর্কে। 


এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি আরও বলেন, করােনা আবহে অবেলকৃষকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি গম কেনা হয়েছে । এবং সবচেয়ে বেশি পরিমাণ টাকা কৃষকদের হাতে গিয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে কৃষকরা কি চায় তা এই বিলে রয়েছে। স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে কৃষকদের কোনওভাবে এই বিল কৃষকদের পিছনে ফেলবে না উলটে সাহায্য করবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।

এদিন বিহারের একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাসে উপস্থিত ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারও। মােদির সুরে নীতীশ বলেন, ‘সংসদে কৃষি বিল পাশ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন কৃষকরাই। কৃষকদের ক্ষমতায়ন হবে।’

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে মােদির এই কৃষক বিলকে হাতিয়ার করেই নির্বাচনী প্রচারে নামবেন নীতীশ কুমারের কথাতেই স্পষ্ট। সেইসঙ্গে এই বিলের বিরােধিতা করার জন্য বিরােধীদের তুলােধনা করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। 

এ প্রসঙ্গে নীতীশ স্মরণ করিয়ে দেন ২০০৬ সালে এগ্রিকালচার প্রডিউস মার্কেট কমিটি বিহারের কৃষকদের উন্নয়নে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেই সিদ্ধান্ত আজ দেশজুড়ে কার্যকর হল। এর থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন কৃষকরা তারা তাদের নিজেদের মতাে ফসল বিক্রি করতে পারবেন। 

বিহারে যখন নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন আরজেডি প্রবল বিক্ষোভ দেখিয়েছিল এবং রাজভবন অভিযান করেছিল। এদিন বিহারের বিরােধীদেরকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি নীতীশ। তিনি নাম না করে বলেন এখানে প্রত্যেকটা ইস্যুতেই বিরােধীতা করা হয়। মুখ খােলা হয় সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু সেই বিরােধিতার কোনও প্রভাব জনমানসে পড়ে না। 

নীতীশ এই বক্তব্যের মাধ্যমে বােঝাতে চেয়েছেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিরােধীতা ভােট ব্যাঙ্কে কোনও প্রভাবই ফেলতে পারবে না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে বিজেপির সঙ্গে গাটছড়া বেঁধে জয়ের রাস্তা সহজ করতে এখন মােদির প্রশংসায় নীতীশ আর নীতীশের প্রশংসায় মােদি । 

এদিন প্রধানমন্ত্রী অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেটের সূচনা করেন। এর ফলে বিহারের ৪৫,৯৪৫ টি গ্রাম উপকৃত হবে। ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার গ্রামের মানুষ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেটের সুবিধা পাবেন। এর জন্য এক হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। বিহারের জন্য ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়নমুখী প্যাকেজ ঘােষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে এদিন ধন্যবাদ জানিয়েছেন নীতীশ। সেই সঙ্গে ভাগলপুরেও একটি ব্রিজের অন্তর্ভুক্তির জন্য মােদির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।