মেয়াদ পেরোনো খাবারের তারিখ বদলে ফের বাজারে, ম্যাগি-কুরকুরেতে পাল্টে যাচ্ছে এক্সপায়ারি ডেট

Photo: মেয়াদ পেরোনো খাবারের তারিখ বদলে ফের বাজারে (AI)

জনপ্রিয় প্যাকেটজাত খাবারের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাজারে বিক্রি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠল। লে’জ, কুরকুরে, ম্যাগি, নর, রসোই, হেলম্যানসের মতো নামী ব্র্যান্ডের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া পণ্যের প্যাকেটে নতুন তারিখ বসিয়ে ফের বাজারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগে নভি মুম্বাইয়ের একটি গুদামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ এবং পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। বাজেয়াপ্ত পণ্যের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৭৫.২১ লক্ষ টাকা।

২৪-২৯ আগস্ট পর্যন্ত তুর্ভে টিটিসি শিল্প এলাকার সাধনা এন্টারপ্রাইজের গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেখানে ১০টি রপ্তানিকারক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত মোট ৮,৪৪২ কার্টন পণ্য মজুত ছিল। এর মধ্যে চিপস, নুডলস, স্যুপ, মেয়োনিজ, কারি পেস্ট এবং ঠান্ডা পানীয়-সহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও পানীয় ছিল। গুদাম থেকে আরও প্রায় ৩০ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের লেবেলবিহীন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার উদ্ধার হয়েছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্যাকেটের আসল তৈরির তারিখ এবং মেয়াদ শেষের তারিখ মুছে বা ঢেকে তার জায়গায় নতুন তারিখ বসানো হত। এর জন্য বিশেষ ধরনের থিনার, কালি মুছে ফেলার উপকরণ, ইঙ্কজেট প্রিন্টার এবং নকল স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি এফডিএর। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে প্যাকেটের পিছনে থাকা উপাদানের তালিকা এবং পুষ্টিগুণের তথ্যও বদলে নতুন স্টিকার লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।


এই ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলির সঙ্গে দিল্লি ও নয়ডার কয়েকটি আমদানি-রপ্তানিকারক সংস্থার যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। ফলে শুধু স্থানীয় বাজারে নয়, বদলে দেওয়া তারিখের পণ্য অন্য রাজ্য বা বিদেশের বাজারে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় প্যাকেটের গায়ে লেখা উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ শেষের তারিখ এবং উপাদানের তথ্য ক্রেতার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেই তথ্যই যদি বদলে দেওয়া হয়, তাহলে একদিকে ক্রেতার স্বাস্থ্যের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি নামী ব্র্যান্ডগুলির বাজার-সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে দ্রুত বিক্রি হওয়া প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে এই ধরনের জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ করা খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন: বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর আশঙ্কা, রাজ্যে চিহ্নিত ৫ হটস্পট জেলা

অভিযানের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উদ্ধার হওয়া পণ্য কোথায় পাঠানোর কথা ছিল, কতদিন ধরে এই কারবার চলছিল এবং এর সঙ্গে কোন কোন সংস্থা ও ব্যক্তি যুক্ত, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।