মীনাক্ষী ভাট্টাচার্য
দিল্লি, ১০ মার্চ— পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে দেশে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে চাপ বাড়তেই জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। ১৯৫৫ সালের এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট ১৯৫৫ বা অত্যাবশ্যক পণ্য আইনের জরুরি ধারা প্রয়োগ করে এলপিজি মজুত, বিক্রি ও ব্যবহারের উপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে সরকার। এই আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত সীমার বেশি গ্যাস মজুত বা বেচাকেনা রোধ করে সমতাভিত্তিক বণ্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
পরিস্থিতি সামাল দিতে এদিন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি, জ্বালানি উৎপাদনকারী সব সংস্থাকেই সর্বোচ্চ উৎপাদন বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে মঙ্গলবার। গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিতে ২১ দিনের বদলে ২৫ দিনের আগে নতুন সিলিন্ডার বুকিংয়ের উপরও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
Advertisement
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সীমার বেশি গ্যাস মজুত করলে সরবরাহকারীর লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারগুলিকেও এই আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, গত ৬ মাসের গড় ব্যবহার ধরে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে প্রয়োজন হলে বরাদ্দ সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোও হতে পারে। শহরাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের অন্তত ৮০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে। একই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষিত রাখতে গৃহস্থালি খাতে গ্যাস সরবরাহকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বছরে প্রায় ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর বাকি ১৩ শতাংশ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র—যেমন হোটেল, রেস্তরাঁ ও শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আমদানিকৃত এলপিজির একটি অংশ হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি পরিষেবার জন্য আলাদা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তেল বিপণন সংস্থাগুলির ৩ জন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
Advertisement



