ওড়িশার জঙ্গলে ওরাংওটার পাঁচটি শিশুর সন্ধান মেলার পর আরও কড়া হচ্ছে ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স বা ডিআরআই (DRI)। সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী এবং বন্যপ্রাণীর দেহাংশের পাচার রুখতে আরও জোরদার অভিযান চালাচ্ছে ডিআরআই(DRI)। গত ১০ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬টি বড় অভিযান চালিয়েছে এই কেন্দ্রীয় সংস্থাটি(DRI)। অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে দু’টি চিতাবাঘের চামড়া, ১৮০টি জীবন্ত ইন্ডিয়ান স্টার কচ্ছপ, ১২টি জীবন্ত টোকে গেকো, প্রায় ২৪ কেজি বনরুইয়ের আঁশ এবং ৫০০ গ্রাম বাঘের হাড়। মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৭ সেপ্টেম্বর ওড়িশার কোরাপুট জেলার জয়পুরে একটি অভিযান চালানো হয়(Wildlife Smuggling)। সেই অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। চিতাবাঘ বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন, ১৯৭২-এর তফসিল-১-এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে চিতাবাঘের চামড়া বা দেহাংশ কেনাবেচা, পাচার, রাখা বা কোথাও নিয়ে যাওয়া আইনত নিষিদ্ধ। উদ্ধার হওয়া চামড়া (Wildlife Smuggling) এবং আটক ব্যক্তিকে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে কোরাপুটের বন দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
শুধু ওড়িশার কোরাপুট নয়, বেঙ্গালুরুর গান্ধীনগরেও অভিযান চালায় ডিআরআই(DRI)। এক ব্যক্তির ব্যাগ থেকে ছ’টি কাপড়ের প্যাকেট উদ্ধার(Wildlife Smuggling) করা হয়। সেই প্যাকেট থেকে মেলে ১৮০টি জীবন্ত ইন্ডিয়ান স্টার কচ্ছপ। ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (WCCB) ওই কচ্ছপগুলিকে Geochelone elegans প্রজাতির কচ্ছপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রজাতিটি বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন, ১৯৭২-এর তফসিল-১-এর অন্তর্ভুক্ত।
আরও পড়ুন: ভূমিধসে সড়ক বন্ধ সিকিমে, বন্ধ রিম্বি-ইউকসমের প্রধান সড়ক
এই কচ্ছপের খোলসের উপর তারার মতো নকশা করা থাকে। বিদেশে পোষ্য হিসেবে এবং বন্যপ্রাণী সংগ্রাহকদের কাজে এই প্রজাতির কচ্ছপের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। ফলে বেআইনিভাবে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পাচারও বেশি হয়। ১৮০টি কচ্ছপ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৭ সেপ্টেম্বর মেঘালয়ের রি-ভয় জেলার আরও একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি গাড়ি আটক করে ডিআরআই (DRI)। তল্লাশি চালিয়ে তিনটি ব্যাগে থেকে ১৪.৬৮ কেজি শুকনো বনরুইয়ের আঁশ উদ্ধার করা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে বনরুই অন্যতম। এশিয়ার কিছু অঞ্চলে চিকিৎসার কাজে এর আঁশ ব্যবহার করা হয়। উদ্ধার হওয়া আঁশ, আটক ব্যক্তি এবং গাড়িটিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মেঘালয়ের নংপোহের রেঞ্জ ফরেস্ট অফিসারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের সিদ্ধি জেলায় চিতাবাঘের চামড়া পাচারচক্রের বিরুদ্ধেও অভিযান চালায় এই কেন্দ্রীয় সংস্থাটি (DRI)। সিদ্ধি বন দপ্তরের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। দুই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়। বেআইনি ভাবে চিতাবাঘ শিকার, দেহাংশ রাখা, পরিবহণ এবং বিক্রির পরিকল্পনা সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণও উদ্ধার হয়েছে। চামড়া ও গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে অভিযুক্তদের(Wildlife Smuggling) সিদ্ধি বন দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রিপাবলিকানরা জিতলেই প্রত্যেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ হাজার ডলার! বড় ঘোষণা ট্রাম্পের
৫ সেপ্টেম্বর আসামের কেওখালিতে বেআইনি বন্যপ্রাণী পাচারের নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। দুই ব্যক্তিকে আটক করে তাঁদের কাছ থেকে ১২টি জীবন্ত টোকে গেকো উদ্ধআর করা হয়েছে। এই সরীসৃপ বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন, ১৯৭২-এর তফসিল-১ এবং CITES-এর অ্যাপেন্ডিক্স-২-এর অন্তর্ভুক্ত। এশিয়ার কিছু অঞ্চলে চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য টোকে গেকোর চাহিদা রয়েছে। পোষ্য হিসেবেও এর চাহিদা অত্যন্ত বেশি। আটক দুই ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলিকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আসামের ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের রেঞ্জ ফরেস্ট অফিসারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২৮ আগস্ট আসামের কার্বি আংলং জেলায় তিন ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় ডিআরআই(DRI)। প্রায় ৯ কেজির বনরুইয়ের আঁশ এবং মাথার খুলি ও দাঁত-সহ প্রায় ৫০০ গ্রাম বাঘের হাড় উদ্ধার করা হয়।
দেখুুন: কৌশিকী অমাবস্যার মাহাত্ম্য নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?