• facebook
  • twitter
Monday, 27 April, 2026

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই তিনি ঢাকায় গিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন

আগেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল, এ বার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে নিয়োগ করা হল দীনেশ ত্রিবেদীকে। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই তিনি ঢাকায় গিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। যদিও ঠিক কবে তিনি দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি।

এত দিন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন প্রণয় বর্মা। তাঁর জায়গাতেই দায়িত্ব নিতে চলেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল করতে চাইছে দিল্লি। সেই প্রেক্ষিতেই অভিজ্ঞ এবং বাংলাভাষায় সাবলীল এক নেতাকে এই পদে বসানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী। কংগ্রেস দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু হলেও পরে জনতা দলে যোগ দেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে তিনি সেই দলে যোগ দেন এবং প্রতিষ্ঠালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব সামলান। পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভা ও লোকসভা— উভয় ক্ষেত্রেই সাংসদ নির্বাচিত হন।

Advertisement

২০০৯ সালে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভা নির্বাচনে জিতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পান। পরে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলান। যদিও রেলের ভাড়া বৃদ্ধি কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে তাঁকে সেই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে এবং ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

গুজরাতি পরিবারে জন্ম হলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর গভীর যোগ রয়েছে। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর বিদেশে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। এই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার সমন্বয়ই বাংলাদেশে তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Advertisement