বিদেশি অর্থে অরাজকতা চালাচ্ছে ককরোচরা, পাক-যোগের অভিযোগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

Cockroach Janata Party (CJP) founder Abhijeet Dipke Photo-ANI

ককরোচ জনতা পার্টিকে অর্থ জোগাচ্ছে পাকিস্তানি রাজনীতিবিদরা। সিজেপি-কে নিয়ে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও সংগঠনের কৌশল নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত আশুতোষ রাঙ্কার বিদেশি অর্থদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য রয়েছে তাঁদের কাছে।

বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র সিং-এর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন অর্থদাতার কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন অভিজিৎ দীপকে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি রাজনীতিকদের কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ভারতবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে এই উদ্যোগে তাঁরা মদত দিতেন।

বিজেপির মুখপাত্র তুহিন এ সিনহার মুখেও একই সুর শোনা গিয়েছে। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, উৎসবের মরশুমে দিল্লিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করাই ছিল সিজেপির কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তাঁর অভিযোগ, বিচারব্যবস্থাকে নিশানা করে কংগ্রেস ও সিজেপি একই সময়ে আন্দোলন করছে। এই ধরনের কর্মসূচি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পরিকল্পনার অংশ।


এদিকে, দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশ ও অন্য রাজনৈতিক দলের সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁরা মুক্তি পান। এক বছরের জন্য শান্তিভঙ্গের কোনও কাজে যুক্ত না হওয়ার মুচলেকাও দিয়েছিলেন। অভিযোগ, ১৩ অক্টোবর অজিঙ্ক শিন্দের সঙ্গে তাঁরা পুলিশি ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরের বন্ধ গেট টপকে প্রবেশ করেন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদস্যাগের দাবিতে তাঁরা স্লোগানও দেন। এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি ছিল বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধীরা। কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রমাণ ছাড়া কীভাবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, আইবি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আরও পড়ুন: আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার নয়, স্বাধীনতা খর্ব হলেই ২৪ ঘণ্টার হিসেব! পুলিশকে কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের

বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে নজর রাখছে দিল্লি পুলিশ।