জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শুক্রবার অর্থাৎ আজ বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের দিকে শান্তিপূর্ণ মিছিল করার কথা জানালেন ককরোচ জনাত পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে(Abhijeet Dipke)। ‘লেহারা দো তেরঙা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ অক্টোবর এই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির জন্য যদি গ্রেপ্তার হতে হয়, তাহলে তাঁরা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দীপকে (Abhijeet Dipke)।
শুক্রবার দলের আইনি উপদেষ্টা রত্না সিংকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন সিজেপি (CJP) প্রধান। সেখানে তাঁর অভিযোগ, দেশের নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দীপকে (Abhijeet Dipke)।
মিছিল ঘিরে একাধিক বিধিনিষেধের অভিযোগ
দীপকের (Abhijeet Dipke) দাবি, গত ১০ অক্টোবর সিজেপির কর্মসূচির ডাক দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। ১৬ অক্টোবর মিছিলের পরিকল্পনার কথা জানানর পরেই প্রশাসনের তরফে কনট প্লেশের সেন্ট্রীল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি(Abhijeet Dipke)।
দীপকে(Abhijeet Dipke) বলেন, মহাত্মা গান্ধী ও বি আর আম্বেদকরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। কোনও সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণভাবে প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাওয়াই তাঁদের উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, ‘আমরা শান্তি ও অহিংসায় বিশ্বাস করি। আমরা গান্ধী এবং অহিংসার আদর্শে বিশ্বাসী। আমরা শুধু জবাবদিহি চাই’।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে সিজেপি (CJP) প্রধান প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পথে নামলে নাগরিকদের কেন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হবে? দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শত শত জায়গায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি হলে প্রশাসন কি একইভাবে বাধা দেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। দীপকের (Abhijeet Dipke)কথা, ‘ভারতে কি তেরঙা ওড়ানো এখন অপরাধ হয়ে গিয়েছে?’ এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি (Abhijeet Dipke)।
আরও পড়ুন: ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, মোয়ায়েন ৩২ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা
জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারি নিয়ে সরব
সিজেপি (CJP)-র দুই সদস্য আশুতোষ ও সৌরভের গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গও তোলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে(Abhijeet Dipke)। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের কারণে ওই দু’জনকে আটক করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সেন্ট্রাল পার্কের বাইরে পুলিশের সঙ্গে দলের সদস্যদের কথোপকথনের একটি ভিডিওর কথা বলেন দীপকে। তাঁর দাবি, ওই ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, দলের জাতীয় মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজয় মাল্লাঙ্গি এবং অন্য এক ব্যক্তিকে জাতীয় পতাকা হাতে ভিডিও রেকর্ড করতে বাধা দিচ্ছেন এক পুলিশকর্মী।
দিল্লি পুলিশ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য মাত্র ১১ জনকে অনুমতি দিতে পারে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিজেপি প্রধান। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা দেশের ১৪০ কোটি মানুষের গর্ব এবং প্রত্যেক নাগরিকেরই শান্তিপূর্ণ ভাবে দেশপ্রেম প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ করছে, অথচ লাঠি হাতে ঘুরে বেড়ানো ব্যক্তিদের কারণে সৃষ্ট অশান্তি ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জরুরি অবস্থা’ বলেও বর্ণনা করেন দীপকে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা থেকে বিরত থাকছে।
দলীয় সদস্যদের উপর নজরদারির অভিযোগ
নিজের উপর এবং দলের অন্য সদস্যদের উপর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন দীপকে। তাঁর দাবি, সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীরা তাঁর বাড়ির কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং একটি সাদা স্করপিও গাড়ি প্রায়ই তাঁকে অনুসরণ করছে।
দলের আইনি উপদেষ্টা প্রধান রত্না সিংকেও গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকেরা অনুসরণ করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি, নম্বর প্লেটহীন গাড়িতে দলের সদস্যদের পিছনে ধাওয়া করা হচ্ছে এবং তাঁর আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীর কাছেও সাদা পোশাকের আধিকারিকেরা তাঁর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন সিজেপি প্রধান।
এ দিন ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানান দীপকে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদে এমন একজনকে নিয়োগ করা উচিত, যিনি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফর্ম ৬-এ পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছাড়াই ওই পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের তোলা বিভিন্ন প্রশ্নেরও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে সরকারের পতন ঘটানো এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য নয় বলে স্পষ্ট করেছেন দিপকে। তাঁর কথায়, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করার দাবিতেই তাঁদের প্রতিবাদ।
তিনি ফের একবার মনে করিয়ে দেন, আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সিজেপির সদস্যেরা শান্তিপূর্ণভাবে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের দিকে মিছিল করবেন। ‘লেহরা দো তেরঙা’ কর্মসূচি নির্ধারিত সূচি মেনেই এগোবে বলে জানিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=xlwlI9NodYqAAQ0I” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>