মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে যখন ভারত-মার্কিন সম্পর্ক টানটান, ঠিক তখনই নয়াদিল্লিতে পা রাখছেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। দু’দিনের সফরে তিনি সোমবারই ভারতে আসছেন বলে কূটনৈতিক মহল সূত্রে খবর। এই সফরকালে তাঁর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
প্রসঙ্গত, গলওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক অনেকটা তলানিতে ঠেকেছিল। এবার সেই উত্তেজনা প্রশমনে এবং সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ডোভাল বৈঠকে স্পষ্ট জানাবেন— পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে যে বিপুল সংখ্যক লাল ফৌজ এখনও মোতায়েন রয়েছে, তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। প্রায় এক লক্ষ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনই ভারতের প্রধান উদ্বেগ। এই ইস্যুতেই বৈঠকে চিন কতটা সাড়া দেয়, তার উপর নির্ভর করছে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি।
Advertisement
সাউথ ব্লক সূত্রের মতে, ওয়াং ই–ডোভাল বৈঠকের ফলশ্রুতিই অনেকাংশে নির্ধারণ করবে আগামী দিনে ভারত-চিন সম্পর্কের গতিমুখ। কারণ, চলতি মাসের শেষ দিকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে যোগ দিতে চিনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা। ওয়াং ই–ডোভালের কথোপকথনই সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করবে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
Advertisement
এর পাশাপাশি, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবনের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোতে পারে। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস, হিমাচলের শিপকি লা এবং সিকিমের নাথু লা দিয়ে আবারও বাণিজ্য চালু করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। বেইজিং থেকেও বার্তা এসেছে, সীমান্ত বাণিজ্য শুধু অর্থনৈতিক দিকেই নয়, সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সব মিলিয়ে, ওয়াং ই–এর এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং নতুন করে দুই এশীয় পরাশক্তির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে এক বড় পরীক্ষা হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement



