সত্য নিকেতন ধসের পর দিল্লি জুড়ে বেআইনি নির্মাণে কোপ, বেআইনি বাড়ি চিহ্নিত করে ভাঙার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Image: ANI

সত্য নিকেতনের মর্মান্তিক বহুতল ধসের পর রাজধানী জুড়ে বেআইনি ও বিপজ্জনক নির্মাণের (Delhi Illegal House) বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে নামল দিল্লি সরকার। শহরের সমস্ত অবৈধ কাঠামো চিহ্নিত করে যেখানে যেখানে প্রয়োজন তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত (Rekha Gupta) । একইসঙ্গে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পেইং গেস্ট ও হস্টেলগুলির নথি, নির্মাণ পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুরসভাকে।

মুখ্যমন্ত্রীর (Rekha Gupta) নির্দেশের পরই মুখার্জি নগরের ইন্দিরা বিহার-সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুরসভা বা এমসিডি। বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়া একটি আবাসিক ভবন ভাঙার কাজও শুরু হয়েছে। বাড়িটির পাশে থাকা অন্য ২টি বহুতলের মধ্যে ফাটল দেখা দেওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট ভবনগুলির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ছোট যন্ত্রের সাহায্যে ধাপে ধাপে ভাঙার কাজ চলছে।

এমসিডিকে পুরনো বিল্ডিং রেকর্ডও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। কোন সময়ে, কার আমলে এবং কোন আধিকারিকের দায়িত্বে বেআইনি নির্মাণ (Delhi Illegal House) হয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজন হলে দায় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র আধিকারিকদের শুধু দপ্তরে বসে না থেকে সরাসরি এলাকায় গিয়ে অভিযানের তদারকি করতে বলা হয়েছে।


এরই মধ্যে সত্য নিকেতনের ঘটনার তদন্তে একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। ৫০ বছরের পুরনো পাঁচতলা বাড়িটিতে ‘হস্টেল ডেজ’ নামে পিজি চলছিল। ২০২৫-এর আগস্টে বাড়িটি শুভম ত্যাগী ও সুধাংশুকে লিজ দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। আবাসিকদের দেখভাল এবং বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ছিল সুধাংশুর উপর। তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এর আগে বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্ত, তাঁর স্ত্রী ঊর্মিলা, ছেলে মহেশ এবং ঠিকাদার সরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: ১১ হাতের দুর্গার অস্তিত্ব না থাকলেও বাংলায় ১২ এবং ১৮ হাতের দুর্গার প্রচলন রয়েছে, কিছু জমিদার ও বনেদি বাড়িতে এখনও এই রূপেই চলে পুজো

ধসের আগে কয়েকদিন ধরে বাড়িটিতে মেরামতির কাজ চলছিল। বেসমেন্টে বর্জ্য ও বৃষ্টির জল জমে থাকার পাশাপাশি নিচের তলায় জায়গা বাড়ানোর কাজও হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই কাজের সঙ্গে ধসের কোনও যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর দিল্লি সরকার পিজি ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘পেয়িং গেস্ট অ্যাকোমোডেশন রেগুলেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার বিল’-এর প্রস্তাবও করেছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সব পিজিকে ৯০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স ও নথিভুক্তিকরণ করতে হবে। পুলিশ, পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের এনওসি বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি প্রতিটি পিজিকে দেওয়া হবে একটি ইউনিক নম্বর। সরকারি ‘GovPG’ পোর্টালে নথিভুক্ত পিজিগুলির তথ্য প্রকাশ করা হবে।

পিজির ভাড়া ও নিরাপত্তা নিয়েও একাধিক বিধি আনার প্রস্তাব রয়েছে। তিন মাসের বেশি নিরাপত্তা জামানত নেওয়া যাবে না। প্রবেশপথ ও সাধারণ এলাকায় সিসিটিভি বসিয়ে ৩০ দিনের ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। ১৫ জন বা তার বেশি আবাসিক থাকলে রাতে নিরাপত্তারক্ষী এবং ৫০০ মিটারের মধ্যে ওয়ার্ডেন রাখার নিয়ম করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পিজিগুলির নিরাপত্তা ও পরিষেবার ভিত্তিতে ‘কমপ্লায়েন্স রেটিং’ এবং নিয়ম মেনে চলা মালিকদের জন্য বিশেষ স্বীকৃতির প্রস্তাব রয়েছে।

সত্য নিকেতনের ধসে ৭ জনের মৃত্যু এবং বেশ  কয়েকজন আহত হওয়ার পর প্রশাসনের তরফে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর গাফিলতির অভিযোগে এমসিডির দক্ষিণ জোনের ডেপুটি কমিশনার-সহ ৪ ইঞ্জিনিয়ারকে বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছে। এখন রাজধানীর অন্যান্য বিপজ্জনক ভবনগুলির ক্ষেত্রে একই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ করা দিল্লি প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/XnH4aiIEsgg?si=-v46zIhEoLyxYraQ” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>