• facebook
  • twitter
Thursday, 22 January, 2026

ছত্তিশগঢ়ে স্টিল কারখানায় বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল ৭ শ্রমিকের, গুরুতর আহত ১০

ছত্তিশগঢ়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

ছত্তিশগঢ়ের বালোদা বাজার জেলার বাকুলাহি গ্রামে অবস্থিত একটি বেসরকারি স্টিল কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন সাতজন শ্রমিক। বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াল ইস্পাত অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড সংস্থার ডিএসসি কয়লা চুল্লিতে আচমকা এই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত দশজন শ্রমিক।

প্রাথমিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চুল্লির কাছে কাজ করার সময় হঠাৎই বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে জ্বলন্ত কয়লা ও অতি উত্তপ্ত বস্তু শ্রমিকদের ওপর ছিটকে পড়ে, যার জেরে মারাত্মক দগ্ধ হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়।

Advertisement

ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আকাশে কয়েকশো ফুট উঁচুতে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায় এবং চুল্লি সংলগ্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার দেওয়াল কালো হয়ে যায় এবং চারদিকে ছাই ও পোড়া কয়লা ছড়িয়ে পড়ে।

Advertisement

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নিপানিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ও ভাটাপাড়া গ্রামীণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। এরপর সেখান থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। আহত শ্রমিকদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। যদিও বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

ছত্তিশগঢ়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানান। তবে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাইয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাস জমে থাকা, রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতি নাকি অন্য কোনও কারণ— সব দিক খতিয়ে দেখতে শিল্প সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হবে।

এই ঘটনায় আবারও ছত্তিশগঢ়ের শিল্পাঞ্চলগুলিতে শ্রমিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, নিহত শ্রমিকদের অধিকাংশই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন, ফলে এই দুর্ঘটনা বহু পরিবারকে গভীর সংকটে ফেলে দিল।

Advertisement