• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

কেন্দ্রের রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল ৯.৭৬ লক্ষ কোটি

ডিসেম্বরে জিএসটিতে স্বস্তির খবর

চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষে কেন্দ্রের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক বাজেটে নির্ধারিত ঘাটতির এই লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ ৬২.৩ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে, আগের বছরে একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৫২.৫ শতাংশ।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রের অনুমান ছিল জিডিপির ৪.৪ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতি, যা ১৫.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা হওয়ার কথা। তবে কেন্দ্রীয় হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বর পর্যন্ত মোট রাজস্ব প্রাপ্তি হয়েছে ১৯.৪৯ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ১৩ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা কর, ৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা কর-বহির্ভূত রাজস্ব এবং ৩৮ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা ঋণ-বহির্ভূত মূলধন প্রাপ্তি।

Advertisement

সিএজি (ক্যাগ)-র তথ্য অনুসারে, একই সময়ে রাজ্য সরকারগুলির জন্য কেন্দ্র থেকে পাঠানো করের অংশ ছিল ৯ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় যা ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা বেশি।

Advertisement

অন্যদিকে, কেন্দ্রের মোট ব্যয় হয়েছে ২৯.২৬ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে ব্যয় হয়েছে ২২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এছাড়া মূলধনী খাতে ব্যয় হয়েছে ৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা। মোট রাজস্ব ব্যয়ের মধ্যে ৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে সুদ দেওয়ার জন্য। এছাড়া বিভিন্ন ভর্তুকি এবং সরকারি প্রকল্পের জন্য ব্যয় হয়েছে ২ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রের কর সংক্রান্ত রাজস্বে প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তামাকজাত পণ্যের উপর নতুন জিএসটি কার্যকর হচ্ছে। নতুন জিএসটি কাঠামোতে এই পণ্যগুলো হবে সবচেয়ে দামি, যা রাজস্ব ঘাটতি সামলাতে সহায়ক হবে।

তবে বছরের শেষ মাসে কিছুটা স্বস্তির খবর শোনা গিয়েছে। ডিসেম্বর মাসে দেশে জিএসটি আদায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৬.১ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রক সূত্রের খবর, অভ্যন্তরীণ লেনদেন থেকে কর আদায়ে স্থিতিশীলতা ছিল। এছাড়া আমদানিজনিত কর আদায়েও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

মাসভিত্তিক খতিয়ানের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় জিএসটি, রাজ্য জিএসটি এবং সমন্বিত জিএসটি— তিন ক্ষেত্রেই কর আদায়ের উন্নতি দেখা গেছে। অর্থমন্ত্রকের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর ফাঁকি রোধ, ডিজিটাল নজরদারি এবং নিয়মিত পর্যালোচনার ফলে এই বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিল্প উৎপাদন, পরিষেবা খাতের সম্প্রসারণ এবং আমদানি কার্যকলাপ বাড়লে আগামী মাসগুলিতেও কর আদায়ে এই ধারা বজায় থাকতে পারে। রাজ্যগুলির জন্যও এই সংগ্রহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে এই করের বড় ভূমিকা রয়েছে। ডিসেম্বরের এই পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য নতুন বছরে অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

Advertisement