ছত্তিশগড়ে ফের দেখা মিলছে কৃষ্ণসার হরিণের। দীর্ঘদিন পর এই বিরল প্রাণীর প্রত্যাবর্তনকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে। একইসঙ্গে মানুষের উদ্যোগে হাতির সঙ্গে সংঘাত কমার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় এই অঞ্চলে কৃষ্ণসার হরিণ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ২০১৭ সালে স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা হওয়ার পর শুরু হয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ। বন দপ্তরের পরিকল্পনায় পাঁচ বছরের বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রাণীকে ফেরানোর চেষ্টা শুরু হয়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দিল্লির জাতীয় উদ্যান এবং বিলাসপুরের একটি চিড়িয়াখানা থেকে হরিণ এনে ছত্তিশগড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে স্বনির্ভর একটি জনসংখ্যা তৈরি হয়েছে, যা এই প্রকল্পের সাফল্যের প্রমাণ।
Advertisement
শুধু কৃষ্ণসার নয়, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল মিলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির পাখি ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড’-এর সংরক্ষণে নতুন আশার কথা শোনা যাচ্ছে। ডিম স্থানান্তর করে নতুন প্রজনন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে, যার ফলে ছানা ফুটছে সফলভাবে।
Advertisement
অন্যদিকে, মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে ছত্তিশগড়ে স্থানীয় মানুষদের নিয়ে গড়ে উঠেছে বিশেষ দল। এই দলগুলি হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখে এবং আগাম সতর্কবার্তা দেয়। ফলে গ্রামবাসীরা আগে থেকেই সাবধান হতে পারেন এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই এই ধরনের প্রকল্পের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে এগোতে পারলেই ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
Advertisement



