রেলস্টেশনে পানীয় জলের গুণমান নিয়ে বেশ চিন্তায় থাকেন যাত্রীরা। এবার যাত্রীদের নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে দেশ জুড়ে নতুন ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রেল। পানীয় জলের মান নিয়ে ক্যাগ (সিএজি) রিপোর্টের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং রেল বোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকরা বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। এরপরেই দ্রুত বেশ কিছু পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ২০ হাজার জায়গায় ‘ট্যাঙ্ক টু ট্যাপ’ জল পরিশোধন ও নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। জল ঠান্ডা করার যন্ত্র-সহ বিভিন্ন জায়গায় এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। জল ট্যাঙ্কে ঢোকার পর থেকে যাত্রীদের ব্যবহার পর্যন্ত তার মান ঠিক রয়েছে কি না, তা নজরে রাখা হবে।
এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পুরনো জলাধার ও ট্যাঙ্ক বদলে ফেলা হবে। জল সরবরাহের উৎস এবং যেখান থেকে যাত্রীরা জল সংগ্রহ করেন, দুই জায়গাতেই নিয়মিত জলের মান পরীক্ষা করতে হবে। জলাধার পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচিও মেনে চলতে হবে। জলের মান পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যাতে কোনও গাফিলতি না হয়, তার জন্য বিশেষ ভাবে নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে প্রশাসনের তরফে।
কোন কাজের দায়িত্ব কার, তা-ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। এই পুরো ব্যবস্থার উপর সরাসরি নজর রাখবে রেল বোর্ড। রেলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কাজের অগ্রগতি এবং পানীয় জলের মান সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়মিত প্রকাশ করা হবে। এর ফলে ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। ক্যাগ রিপোর্টে রেলের বিভিন্ন জায়গায় পানীয় জলের মান পরীক্ষা, জলাধার পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত নজরদারির ক্ষেত্রে একাধিক ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই পর্যবেক্ষণের পরই জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কড়া নজরদারির মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল।
আরও পড়়ুন: মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বেধড়ক মার খেলেন নববধূ, খুনের চেষ্টার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
রেল জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদ পানীয় জল দেওয়া এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সিএজি-র রিপোর্টে উঠে আসা অন্যান্য বিষয়গুলির ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।