নির্বাচনের আগে ৪৮ ঘণ্টার ‘নীরবতা পর্ব’ ভেঙে রোড শো করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। এবার সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি মিলল না ছত্তীসগঢ়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের। বিজেপির বিজয় বাঘেলের দায়ের করা নির্বাচনী মামলা খারিজ করার আর্জি জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ভূপেশ। শুক্রবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হাইকোর্টে মূল নির্বাচনী মামলায় সমস্ত আইনি যুক্তি তুলে ধরার অধিকার রয়েছে তাঁর।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে শুনানিতে ভূপেশের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর যুক্তি, রিপ্রেজেনটেশন অফ দ্য পিপেল অ্যাক্ট (Representation of the People Act)-এর ১২৬ ধারা নির্বাচনী অপরাধের কথা তুলে ধরে। করাপ্ট প্র্যাকটিস (corrupt practice)-এর নয়। দুর্নীতিমূলক নির্বাচনী আচরণের সংজ্ঞা রয়েছে ১২৩ ধারায়। ফলে ১২৬ ধারার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন বাতিলের মতো প্রশ্ন তোলা যায় না বলেই তাঁর দাবি।
সিব্বলের বক্তব্য, অভিযোগ অনুযায়ী প্রায় ২০০ জন মানুষ ওই রোড শো-তে ছিলেন। অথচ নির্বাচনে ভূপেশ প্রায় ২০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। তাই ওই রোড শো ভোটের ফলকে কোনওভাবেই প্রভাবিত করতে পারে না। তিনি আরও জানান, ভূপেশ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও ওই জমায়েতের অংশ ছিলেন। কিন্তু বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর প্রশ্ন, নির্বাচনী বিধি না মানার ফলে ভোটের ফল প্রভাবিত করা হয়েছিল কি না, তা তো তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। মাত্র ২০০ জনের কাছে বার্তা পৌঁছনোও অন্য ভোটারের কাছে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: ৪৭১টি Boeing 737 MAX বিমানে জরুরি পরিদর্শনের নির্দেশ এফএএ-র, ভারতে কটি রয়েছে জানেন?
সিব্বলের পাল্টা যুক্তি, ‘যখন এটি corrupt practice-ই নয়, তখন কেন আমাকে পূর্ণাঙ্গ বিচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে?’ অন্তত নোটিশ জারি করে বিষয়টি শোনার আবেদন জানান তিনি। তবে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, হাইকোর্টে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরার মতো আইনি ভিত্তি রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভূপেশের আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এই খারিজের ফলে তাঁর কোনও আইনি যুক্তি খর্ব হচ্ছে না। হাইকোর্টে চলা নির্বাচন মামলায় সমস্ত বক্তব্য ও আপত্তি জানানোর স্বাধীনতা থাকছে তাঁর।