গালওয়ানের পর এবার অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) চিনের আগ্রাসন নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করল কংগ্রেস (Congress)। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) অভিযোগ, অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় সেনাকে টহল দিতে বাধা দিচ্ছে চিন। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) , প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ (Rajnath Sing) এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শুক্রবার ‘এক্স’-এ রাহুল (Rahul Gandhi) লেখেন, অরুণাচল প্রদেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় ভারতীয় সেনার টহল আটকে দিয়েছে চিন। তাঁর অভিযোগ, চিনকে থামানোর পরিবর্তে মোদী সরকার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সংবাদ মাধ্যমের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে রাহুলের (Rahul Gandhi) দাবি, সেই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, চিন ভারতের এক ইঞ্চি জমিও দখল করেনি। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন সমাধানের বদলে সরকারের লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষা করা বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা খাতে আরও স্বচ্ছতা আনার বার্তা আমেরিকার
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও (Mallikarjun Kharge) বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ কি তাকসিংয়ের কাছে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে ? ভারতীয় সেনা কি শেরা-৫ নামে নির্দিষ্ট পেট্রলিং পয়েন্টে নিয়মিত যাতায়াতের অধিকার হারিয়েছে ? শীতকালে ওই এলাকায় ভারতীয় সেনার টহল কেন সীমিত থাকে, যেখানে চিনা সেনা সারা বছর উপস্থিত থাকে — সেই প্রশ্নও তুলেছেন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge) । স্থানীয় জনজাতির চারণভূমি ও শিকারের জায়গায় তাঁদের প্রবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি (Mallikarjun Kharge) ।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও কেন্দ্রের তরফে কোনও বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য বারবার জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ। চিনের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’র মানচিত্রে অরুণাচলের ২৭টি জায়গাকে তাদের প্রচলিত নামে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চাঁদের মাটিতে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ২০২৯ সালে প্রথম লুনার রোভার ‘জিন্না-১’
অন্যদিকে, সরকারি সূত্রের দাবি, অরুণাচলপ্রদেশে চিন ধীরে ধীরে ভারতের এলাকায় ঢুকে পড়ছে — এমন কোনও প্রমাণ নেই। ভারত-চিন সীমান্তের কিছু অংশ এখনও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত নয়। তাই কখনও কখনও দুই দেশের টহলদারি দল একই এলাকায় মুখোমুখি হয়ে পড়ে। তখন নির্দিষ্ট নিয়ম ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। ভারতীয় সেনা ও আইটিবিপি সীমান্তে চিনের গতিবিধির উপর নজর রাখছে বলেও দাবি সূত্রের। ফলে কংগ্রেসের অভিযোগ এবং সরকারি সূত্রের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
দেখুন: ভবানীপুরে এমএলএ কাপ ফুটবল, শুভ উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী