• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 29 July, 2026

পঙ্গু জওয়ানদের জন্য সচল কৃত্রিম অঙ্গ বানাচ্ছে এইমস

দিল্লি, ২৩ ফেব্রুয়ারি– সীমায় তারা অতন্দ্র পাহারায় রয়েছেন বলেই আজও আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি৷ জঙ্গি দমন অভিযান হোক বা নিরাপত্তা রক্ষার কাজ, নিজের জীবন দিয়েও দেশ রক্ষার কাজ করেন বীর জওয়ানরা৷ সেই লড়াইয়ে অনেক সময় তাদের পা বা হাত বা শরীরের কোনও অংশ হারাতে হয়৷ কিছু ক্ষেত্রে হাঁটু থেকে বা পুরো পা, কখনও কবজি বা কনুই

পঙ্গু জওয়ানদের জন্য সচল কৃত্রিম অঙ্গ বানাচ্ছে এইমস

দিল্লি, ২৩ ফেব্রুয়ারি– সীমায় তারা অতন্দ্র পাহারায় রয়েছেন বলেই আজও আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি৷ জঙ্গি দমন অভিযান হোক বা নিরাপত্তা রক্ষার কাজ, নিজের জীবন দিয়েও দেশ রক্ষার কাজ করেন বীর জওয়ানরা৷ সেই লড়াইয়ে অনেক সময় তাদের পা বা হাত বা শরীরের কোনও অংশ হারাতে হয়৷
কিছু ক্ষেত্রে হাঁটু থেকে বা পুরো পা, কখনও কবজি বা কনুই থেকে হাত বাদ দিতে হয়৷ তখন পঙ্গু হয়ে সারা জীবন কাটানো ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না৷ কিন্ত্ত এবার সেই ছবি পাল্টাতে চলেছে৷ প্রস্থেসিসের সাহায্যে জওয়ানদের জন্য তাদের পঙ্গুত্ব দূর করতে চলেছেন এইমসের চিকিৎসক-গবেষকরা৷ কৃত্রিম পা নিয়ে হাঁটবেন জওয়ানরা৷ তবে যে সে প্রস্থেসিস নয়, এমন ধরনের ‘এক্সোস্কেলিটাল প্রস্থেসিস’ যা নতুন জীবন দেবে পঙ্গু হয়ে যাওয়া জওয়ানদের৷
দিল্লি এইমসের সঙ্গে এই কাজে হাত মিলিয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও৷ এইমসের অর্থোপেডিক বিভাগের অধ্যাপক ডা. ভাবুক গর্গ বলছেন, দেশের যে জওয়ানরা পঙ্গু হয়ে বাঁচছেন তাঁদের কথা ভেবেই বিশেষ রকম প্রস্থেসিস বা কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে৷ তবে এই প্রস্থেসিস সকলের জন্যই৷ দুর্ঘটনা বা কোনও শারীরিক অসুস্থতার কারণে যে রোগীদের হাত বা পা অপারেশন করে বাদ দিতে হয়েছে তাঁরাও কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহার করে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন৷ দৈনন্দিক কাজকর্ম করতে পারবেন সহজেই৷
মাত্র ১১ মাস বয়সে হাঁটুর নীচ থেকে দু’টি পা-ই বাদ যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকান অ্যাথলিট অস্কার পিস্টোরিয়াস পরবর্তী সময়ে প্রস্থেটিক ব্লেডস নিয়ে প্যারালিম্পিক গেমসে একাধিক স্বর্ণপদক জয় করেছেন তিনি৷ কাজেই প্রস্থেসিস কতটা কার্যকরী হতে পারে তা আগেও প্রমাণিত হয়েছে৷ দিল্লি এইমসের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. রবি মিত্তল বলছেন, কৃত্রিম হাত বা পা তৈরি করলেই হয় না, শরীরের সঙ্গে সেই নতুন অঙ্গ কীভাবে খাপ খাবে সেটাও দেখা দরকার৷ অর্থাৎ নতুন অঙ্গের মুভমেন্টের সঙ্গে শরীরের পেশি ও হাডে়র নড়াচড়া, পেশির অবস্থান এইসবও দেখতে হয়৷অর্থোপেডিক সার্জনরা বলছেন, প্রস্থেসিস দু’রকমের হয়– ফাংশনাল ও নন-ফাংশনাল৷ কসমেটিক প্রস্থেসিস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নন-ফাংশনাল হয়৷ ধরা যাক, হাতের আঙুল বাদ গেছে, তখন সেখানে কসমেটিক প্রস্থেসিস করা যেতে পারে৷ কৃত্রিম আঙুল দেখতে আসলের মতোই হবে তবে কার মুভমেন্ট তেমন হবে না৷ আবার ধরা যাক, হাঁটুর নীচ থেকে পায়ের অংশ বাদ গেছে, সেখানে ফাংশনাল প্রস্থেটিক করতেই হবে৷ কারণ পায়ের মুভমেন্ট দরকার৷
প্রস্থেসিসের গঠন দু’রকমের হয়, এক্সোস্কেলিটাল ও এন্ডোস্কেলিটাল৷ এক্সোস্কেলিটালের ক্ষেত্রে বাইরের কাঠামো তৈরি করতে হয় যা শক্তপোক্ত হয়৷ এই কাঠামো এমনভাবে তৈরি হয় যা শরীরের সঙ্গে যোগ করলে শরীরের পেশির নড়াচড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কাজ করতে পারে৷ এইমসের ডাক্তাররা বলছেন, এইরকমই উন্নতমানের এক্সেস্কেলিটাল প্রস্থেসিস তৈরি করা হচ্ছে৷ সকেট, বডি, কন্ট্রোল সিস্টেম, জয়েন্ট ও টার্মিনাল ডিভাইস সবই আধুনিক মানের৷ শুধু অঙ্গহানি নয়, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথাতেও অনেক সময় হাত বা পা অকেজো হয়ে যায়৷ সেক্ষেত্রে কাজ করবে এই এক্সোস্কেলিটাল প্রস্থেসিস৷