মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ভগবান শিবের তাণ্ডব-এর সঙ্গে তুলনা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi )। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দিকে ইন্ডি জোটের নেতাদের মিছিলের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আন্দোনল থামবে না। ভোটের তালিকায় এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদ এ বার রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের পথে এগোচ্ছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। অন্য দিকে, বিরোধীদের মিছিল ঘিরে সোমবার মধ্য দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড এবং মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধের জেরে রাজধানীর যান চলাচলেও প্রভাব পড়ে।
আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবাদের জন্য বিকল্প তিনটি স্থান নির্ধারণ
মিছিলের আগে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সদর দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাহুল (Rahul Gandhi । সেখানে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রতিবাদের গতিপথ আগে থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানান, রাস্তায় আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি পথেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
বেণুগোপালের অভিযোগ, ‘নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে হাতিয়ার করে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে এবং গণতন্ত্রকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছেন।‘
তিনি জানান, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন জানাবে কংগ্রেস। তবে আবেদনে ঠিক কী কী বিষয় তুলে ধরা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি। বেণুগোপালের কথায়, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছি এবং সেখানে আবেদন জমা দেব।‘
এর আগে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার জন্য কংগ্রেস নেতারা আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে একই ধরনের বিষয় আদালতের বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই বিষয়গুলি আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তোলা যেতে পারে।
বিরোধীদের এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব-সহ একাধিক নেতা। মমতা বলেন, ‘আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাইছি, আর কিছু নয়। এই লড়াই মানুষের জন্য, মানবতার জন্য, ন্যায়বিচারের জন্য… আমরা ন্যায়বিচার চাই, আর কিছু নয়।‘
কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর সিংহ হুডাও বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার জন্য বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন পরস্পরের সঙ্গে মিলে কাজ করছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: মোদী সরকারের ২০০ আধিকারিক বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, বিস্ফোরক দাবি রাহুলের
কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরীও বিক্ষোভকারীদের উপর বিধিনিষেধ আরোপের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশি ক্ষমতা ব্যবহার করছে প্রশাসন। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ মহিবুল্লাহ নাদভি এই আন্দোলনকে জনতার আন্দোলন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই প্রতিবাদ চলতে থাকবে। শিবসেনার (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) সাংসদ সঞ্জয় রাউতও রাহুলের আন্দোলনের আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানান।
বিরোধীদের মিছিলের দিনেই দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির স্থান সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলির তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা নির্দেশিকায় বিকল্প হিসেবে তিনটি জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত জায়গাগুলিতে কী ভাবে বিক্ষোভের অনুমতি নিতে হবে এবং কী কী নিয়ম মানতে হবে, তা নিয়ে পৃথক নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ দিকে, সোমবার মধ্য দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। বারাখাম্বা রোড এবং মান্ডি হাউসের আশপাশের এলাকাতেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। নিরাপত্তার কারণে দিল্লির ছ’টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পাশাপাশি, মিছিলের জন্য একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
দেখুন: ‘এটা শিবের তাণ্ডব, লড়াই চলবে’, মন্তব্য রাহুল গান্ধীর