ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় বদল আসছে। বিদেশি অস্ত্রের উপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার দেশীয় প্রযুক্তির উপর জোর দিচ্ছে ভারত। সেই লক্ষ্যেই ভারতীয় সীমান্তে ব্যবহার করা হবে আদানি ডিফেন্সের তৈরি অত্যাধুনিক ড্রোন। ২০২৫ সালে এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় সেনার পালটা অভিযানে আদানি ডিফেন্স খুব অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় অস্ত্র তৈরি করে নিজেদের কৃতিত্ব প্রমাণ করে।
আদানি ডিফেন্সের তৈরি ‘দৃষ্টি ১০’ ড্রোন ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ড্রোন একটানা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা আকাশে ওড়ার ক্ষমতা রাখে। দীর্ঘ সময় নজরদারি চালানো, সীমান্ত পাহারা এবং শত্রুপক্ষের গতিবিধি জানার ক্ষেত্রে এই ড্রোন অত্যন্ত কার্যকর।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তিতে আদানি ডিফেন্স এখন দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি সংস্থা।
Advertisement
সূত্রের খবর, আগামী এক বছরে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে আদানি গ্রুপ। এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হল ভারতীয় সেনাদের আত্মনির্ভর করে তোলা। এই বিপুল অর্থ খরচ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট মিসাইল, চালকহীন ড্রোন এবং আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি তৈরিতে।
এই মুহূর্তে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড এরোস্পেস দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা সংস্থা। তাঁরা ড্রোন ছাড়াও জলতলের অস্ত্র, কাউন্টার ড্রোন সিস্টেম, গাইডেড মিসাইল, গোলাবারুদ, বন্দুক-সহ নানা ধরনের সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে। পাশাপাশি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরির কাজও শুরু করেছে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বেসরকারি সংস্থার এই বিপুল বিনিয়োগের ফলে ভারত ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে। এতে যেমন দেশের নিরাপত্তা মজবুত হবে, তেমনই দেশীয় শিল্প ও প্রযুক্তিরও বড় উন্নতি ঘটবে।
Advertisement



