• facebook
  • twitter
Wednesday, 18 March, 2026

মহিলাদের নিয়ে নতুন সংগঠন গড়ছে জঙ্গি গোষ্ঠী

দক্ষিণ ভারতে নিয়োগের চেষ্টা নিয়ে সতর্ক গোয়েন্দারা

প্রতীকী চিত্র

মহিলাদের নিয়ে আলাদা সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনা আবার সক্রিয় করেছে একটি জঙ্গি সংগঠন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সিস্টার উইং’ নামে মহিলাদের জন্য বিশেষ একটি শাখা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মহিলাদের নিয়োগের লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছে ওই সংগঠনের সদস্যরা।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা প্রথম সামনে আসে ২০১৬ সালে। তবে সে সময় প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। পরে কয়েক জন মহিলা সদস্যকে গ্রেপ্তার করার পর তদন্তে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য সামনে আসে।

Advertisement

তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই সংগঠনের মহিলা সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নতুন সদস্য সংগ্রহ করা এবং প্রচারমূলক কার্যকলাপ চালানো। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আবার সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

Advertisement

প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কেরল ও তামিলনাড়ুতে কিছু প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দেখা গিয়েছে। এখন কর্নাটক, তেলঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশেও নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের মতে, এই মুহূর্তে সরাসরি হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং মহিলাদের মধ্যে মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এবং ধীরে ধীরে সংগঠনের ভিত মজবুত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে কেরল থেকে একদল ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে একটি চরমপন্থী সংগঠনে যোগ দিয়েছিল। সেই দলের মধ্যেও কয়েক জন মহিলা ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করার পরই তারা ওই পথে পা বাড়িয়েছিলেন বলে মনে করা হয়।

বর্তমানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সামাজিক মাধ্যমের উপর কড়া নজর রাখছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, মহিলাদের দিয়ে একাধিক ভুয়ো পরিচয়ে সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খুলে দক্ষিণ ভারতের মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার মতে, প্রথম ধাপে যত বেশি সম্ভব মহিলাকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। পরে তাদের মধ্য থেকে একজনকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে পারে। সেই নেতৃত্বই পরে অন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে।

এই ধরনের কার্যকলাপ রুখতে নজরদারির পাশাপাশি সমাজের মধ্যে সচেতনতা এবং পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

Advertisement