• facebook
  • twitter
Thursday, 15 January, 2026

৫৬৯ কিমি সীমান্ত এখনও অরক্ষিত, স্বীকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

এই তথ্য স্পষ্ট করেছে যে, সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও অরক্ষিত অঞ্চল এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে এখনও ফাঁক রয়ে গেছে।

বিএসএফ নিরাপত্তা বাহিনী। প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রায়ই রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্ব, এমনকি সরাসরি অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। কিন্তু সংসদে দেওয়া তথ্যে উঠে এল ভিন্ন চিত্র — এখনও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দীর্ঘ এলাকা অরক্ষিত থেকে গিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪০৯৬ কিলোমিটার, যার মধ্যে শুধু বাংলার সীমানা ২২১৬ কিলোমিটার। মেঘালয়ের সীমান্ত ৪৪৩ কিমি, আসামের ২৬৩ কিমি, ত্রিপুরার ৮৫৬ কিমি এবং মিজোরামের ৩১৮ কিমি। এর মধ্যে প্রায় ৫৬৯ কিলোমিটার এলাকায় এখনও কাঁটাতার নেই। কেন্দ্রের দাবি, এই অরক্ষিত অংশের মধ্যে প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার এলাকা পাহাড়ি, বনাঞ্চল বা ধসপ্রবণ হওয়ায় সেখানে কাঁটাতার বসানোই সম্ভব নয়।

Advertisement

শুধু বাংলাতেই ১৬৪৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার দেওয়া হলেও প্রায় ৫৬৯ কিলোমিটার সীমান্ত আজও উন্মুক্ত। এর মধ্যে ৪৫৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হলেও নানা জটিলতায় কাজ আটকে আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দাবি করেছে, প্রায় ১৪৮ কিলোমিটারের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া রাজ্য সরকার শুরুই করেনি। বাকি ২২৯ কিমি অংশের কাজও নানা প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যায় ঝুলে রয়েছে।

Advertisement

এদিকে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও পাচার নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ১,৫৪৭ জন, ২০২৪ সালে ১,৬৯৪ জন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭২৩ জন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে। ২০২৩ সালে ৪,৯৮৮ কেজি, ২০২৪ সালে ৩,১৪৫ কেজি এবং চলতি বছরে প্রথম সাত মাসে ৫,৭২৯ কেজি মাদক বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে ৮,৬১৪, ২০২৪ সালে ৮,৬৪৮ এবং ২০২৫-এর প্রথম সাত মাসে ২,৮৮৬ গবাদি পশু পাচার হওয়ার আগে উদ্ধার হয়েছে। ২০২৩ সালে উদ্ধার হয়েছে ৫১,৮৮২টি, ২০২৪ সালে ৮৬,৭৪৭টি এবং ২০২৫-এ ৩৬,৪৪০টি। ২০২৩ সালে ২,১০,৪০৭ বোতল, ২০২৪ সালে ৩,০৩,৪৮০ বোতল এবং চলতি বছরে ২,১০,৬০৬ বোতল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আর ২০২৩ সালে উদ্ধার হয়েছে ১৬৬.৮১০ কেজি, ২০২৪ সালে ১৮৮.১৪২ কেজি এবং ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে বাজেয়াপ্ত হয়েছে ২০.৮৭৬ কেজি সোনা।

এই তথ্য স্পষ্ট করেছে যে, সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও অরক্ষিত অঞ্চল এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে এখনও ফাঁক রয়ে গেছে। কেন্দ্র যেখানে সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব রাজ্যের ব্যর্থতায় চাপিয়ে দিচ্ছে, সেখানে বিরোধী শিবিরের দাবি — সীমান্তে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মোতায়েন ও অবকাঠামো নির্মাণ সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রের দায়িত্ব, তাই গাফিলতির দায় এড়ানো যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের অরক্ষিত অংশ যতদিন না সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত হয়, ততদিন অনুপ্রবেশ ও পাচার ঠেকানো কঠিন হয়ে যাবে।বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থ সরাসরি জড়িত হওয়ায় সীমান্তে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement