চরম বিপাকে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ লাভ হয়নি। এনডিএ’তেও যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। লোকসভাতেও বিশেষ দল হিসাবে স্বীকৃতি মেলেনি। বরং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নিজের কাঁধ থেকে এই দায় ঝেড়ে ফেলতে চেয়ে নোটিস তলব করেছে এই বিদ্রোহী সাংসদদের থেকে। সব মিলিয়ে সাঁড়াশি চাপে পড়ে লোকসভার স্পিকারের কাছ থেকে সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। অবশেষে এই বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদকে ২১ দিন সময় দিলেন স্পিকার ওম বিড়লা। তাতে কি সমস্যার সমাধান হবে? উঠছে প্রশ্ন।
এই তিন সপ্তাহের সময় পেলেও তাতে স্বস্তি মেলেনি। কারণ আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে। সেটা স্পিকারের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই পড়ছে। বরং বলা যেতে পারে, এই তিন সপ্তাহের সময়ের মধ্যে সাংসদ পদ খারিজ নাও হতে পারে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট যদি আইন অনুযায়ী রায় দেয় তাহলে সেটাও হতে পারে। সুতরাং কাঁটা থেকেই গেল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে ২১ দিনের সময় বরাদ্দের কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে লোকসভার সচিবালয়। এর আগে যে সময় দেওয়া হয়েছিল সেটা মঙ্গলবার শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ তুলেছিলেন তার উত্তর দেননি তাঁরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চান সুদীপ-কাকলি ঘোষদস্তিদাররা। সেটা মঞ্জুর হলো বলা চলে।
আসলে আইন মেনে কোনও উত্তরই তাঁদের কাছে নেই। তাই লিখিত উত্তর দিতে পারেননি তাঁরা। বাড়তি সময় চেয়ে আসলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও দেখে নিতে চান তাঁরা। তাই এই বাড়তি সময় চাওয়া বলে সূত্রের খবর। এই বিষয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, ‘আমরা আবেদন করেছিলাম ২১ দিন সময় চেয়ে। লোকসভার সচিবালয় সেটা গ্রহণ করেছে।’ এই ২০ জন সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন। তারপর যোগ দিলেন এনসিপিআই দলে। কিন্তু লোকসভা টিভিতে ভাষণ দেওয়ার সময় দেখানো হচ্ছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। তাহলে তাঁরা আসলে আছেন কোন দলে? উঠছে প্রশ্ন। এই কারণে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাছাড়া এই ২০ জনের সাংসদের সাংসদ পদ খারিজ করার আর্জি জানিয়ে স্পিকারের কাছে পিটিশন দাখিল করেছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক। স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। ওই ২০ জনের সাংসদপদ খারিজের আবেদন করার ক্ষেত্রে দ্রুত নিষ্পত্তি চাওয়া হয়। লোকসভার স্পিকার এই বিষয়ে আবেদনের নিষ্পত্তিতে দেরি করছেন বলে অভিযোগ করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। লোকসভার স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দাখিল করেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। এখন দেখার জল কতদূর গড়ায়।