শুধু রোগা দেখানোর জন্য নয়, সুস্থ থাকার অন্যতম শর্তও হল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। তাই নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এখন অনেকেই পুষ্টিকর অথচ কম ক্যালোরির খাবার খোঁজেন। এতদিন সেই তালিকায় মাখানার নামই বেশি শোনা যেত। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এবার সেই তালিকায় দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে পদ্মের ডাঁটি বা ‘কমল কাঁকড়ি’। বাজারে এখন প্যাকেটজাত অবস্থাতেও মিলছে এই সবজি, আর স্বাস্থ্যসচেতনদের রান্নাঘরেও বাড়ছে তার ব্যবহার।
পদ্মের ডাঁটি ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ডায়েটে এমন খাবারেরই প্রয়োজন, যা কম ক্যালোরি দিয়েও দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয়। সেই দিক থেকে পদ্মের ডাঁটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
এই সবজির সবচেয়ে বড় গুণ হল এর উচ্চমাত্রার ফাইবার। ফাইবার দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমায়। ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ক্যালোরির দিক থেকেও এটি যথেষ্ট হালকা। প্রতি ১০০ গ্রাম পদ্মের ডাঁটিতে মাত্র ৭০ থেকে ৭৪ কিলোক্যালোরি শক্তি থাকে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ক্যালোরির চাপ না বাড়িয়েই শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও পদ্মের ডাঁটি যথেষ্ট সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, আয়রন এবং অল্প পরিমাণ প্রোটিন। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং আয়রন রক্তের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্যও এটি উপকারী হতে পারে। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় পদ্মের ডাঁটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে এটি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
রান্নার ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক বিকল্প। অল্প ভাপিয়ে এয়ার ফ্রায়ারে সামান্য তেল, নুন ও গোলমরিচ দিয়ে মুচমুচে স্ন্যাকস বানানো যায়। আবার রসুন, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা ও সামান্য অলিভ অয়েলে স্টার ফ্রাই করলেও স্বাদ বাড়ে। অন্যদিকে, দই, মৌরি, হিং, জিরে ও এলাচের সুবাসে তৈরি ইয়াখনি-ধাঁচের ঝোলও হতে পারে পুষ্টিকর ও হালকা একটি পদ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনও একটি খাবারই একা ওজন কমাতে পারে না। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে পদ্মের ডাঁটির মতো কম ক্যালোরি, উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার যোগ করলে ওজন নিয়ন্ত্রণের পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে।
ডায়েটে বাড়ছে ‘কমল কাঁকড়ি’র কদর
Pic Source- AI